advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সরকার পতনই খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ, মানববন্ধনে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৪:২৭ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৪:৩৯
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন দলের নেতারা
advertisement

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিএনপি। আজ বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে তারা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে বিএনপি নেতারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে একমাত্র বাধা সরকার। তাই সরকার পতনে সারা দেশে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। সবাইকে সমুন্নত রাখতে হবে এবং সামনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে এই জালেম সরকারকে পরাজিত করতে হবে।’

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি করে তিনি বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তার ডায়াবেটিস অত্যন্ত বেড়ে গেছে, গায়ের ব্যথা বেড়ে গেছে, তিনি কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না, চলতে পারেন না। হুইল চেয়ারে চলছেন। কিন্তু এই সরকার, তার কর্মকর্তারা এবং ডাক্তাররা বলছেন তিনি নাকি সুস্থ হয়েছেন। মূলত তিনি একেবারে সুস্থ নন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি কারারুদ্ধ দিন পার করছেন। আমরা তার সুচিকিৎসার জন্য মুক্তি দাবি করছি।’

দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন, নিজেদের অধিকার, ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই এবং তাদেরকে সরিয়ে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে দুটি মিথ্যা মামলায় বন্দী রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আদালতে বিচারকরা মুক্ত মনে কাজ করতে পারছেন না।’

আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলন গড়ে তোলাই খালেদা জিয়া মুক্তির একমাত্র পথ বলে তিনি জানান।  

দেশের বিচারব্যবস্থাকে সরকার চূড়ান্তভাবে প্রভাবিত করছে অভিযোগ করে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকার একমাত্র বাধা তাহলে সরকারের পতনের আন্দোলনেই আগে করবো। এবং তারপর খালেদা জিয়া স্বাভাবিকভাবেই মুক্ত হয়ে আসবেন।

ভারতের আসামের নাগরিকপঞ্জীর বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, `আসামে তাদের মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতারা হুমকি দিচ্ছেন, ভারতে বাংলাদেশিরা অনুপ্রবেশ করেছে, তাদেরকে তারা আবার বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। কিন্তু আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, স্বাধীনতার পরে কোন বাংলাদেশি কখনো ভারতে যায়নি। সুতরাং আজকে বাংলাদেশকে আবার বিপদগ্রস্ত ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার জন্য গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে।'

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন ফারুক, আবুল খায়ের ভূইয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকট আহমদ আযম খান, মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী- খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, শিরিন সুলতানা, মীর সরাফত আলী সপু, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।

এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের সমবেত হতে দেখা গেছে। অপরদিকে মানববন্ধনকে ঘিরে প্রেসক্লাবের সামনে এবং এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।

advertisement