advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে থানায় বিয়ে, প্রশাসনের পদক্ষেপ নজরে রাখছেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৫:৫৬ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:২৬
advertisement

পাবনায় এক গৃহবধূকে টানা তিন দিন ধরে পালা করে গণধর্ষণ এবং থানায় তাদের একজনের সঙ্গে ওই গৃহবধূকে বিয়ে দেওয়ার ঘটনার অন্যতম আসামি আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে থানা চত্বরে সন্দেহভাজন এক আসামির সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ প্রশাসনের সার্বিক পদক্ষেপ নজর রাখছে হাইকোর্ট।

আজ বুধবার এ ঘটনায় প্রকাশিত খবর তুলে ধরে সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে স্বপ্রণোদিত আদেশ চান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল। তার সঙ্গে ছিলেন গাজী ফরহাদ রেজা ও রোহানী সিদ্দিকা। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চে এ আবেদনটি তুলে ধরেন আইনজীবীরা।

এ সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে আমরাও বিষয়টা নজরে রাখছি।’

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনজীবী ফয়সাল জানান, আদালতে পাবনার বিষয়টি উদ্ধৃত করে বিচারকদের নজরে আনেন তিনি। আদালত তখন বলেন, ‘বিষয়টিতে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে; ওসিকে শোকজ করা হয়েছে। এটা নিয়ে আপনারা আবার কেন আসছেন?’

তিনি আদালতকে জানান, ওসিকে শোকজ করা হয়েছে ঠিক। কিন্তু আজকের পত্রিকায় এসেছে বিয়ের কাজি, যিনি বিয়েটা পড়াতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন, তাকে এবং ভিকটিমের পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ওসির লোকজন। ওই ওসি যদি ওই থানায় দায়িত্বে বহাল থাকে তাহলে তদন্তটি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে, তদন্ত ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আদালত তখন বলেন, ‘যেহেতু এটা প্রশাসনিক বিষয় এবং যেহেতু কর্তৃপক্ষ অ্যাকশন নিচ্ছে, দেখেন প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়। যদি প্রশাসনের ব্যবস্থা সন্তোষজনক না হয় তখন আপনারা আগামী সপ্তাহে আসেন আমরা দেখব। আদালত এও বলেছেন, মিডিয়ার মাধ্যমে আমরাও বিষয়টা নজরে রাখছি।’

মামলা না নিয়ে ‘ধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূর সঙ্গে থানা চত্বরে ‘ধর্ষণকারীর’ বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সোমবার পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে; গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

তিন সন্তানের জননী ওই গৃহবধূর অভিযোগ, গত ২৯ আগস্ট তাকে প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ তার বাড়িতে নিয়ে এক সহযোগীসহ পালা করে ধর্ষণ করে। দুদিন পর তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিন দিন আটকে রাখা হয় এবং সেখানে আরও ৪/৫ জন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

বিষয়টি ওই গৃহবধূ স্বজনদের  জানালে ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ রাসেলকে আটক করে। কিন্তু  মামলা নথিভুক্ত না করে পুলিশ ওই রাতেই রাসেলের সঙ্গে গৃহবধূর বিয়ে দিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ ওসি ওবায়দুল হককে কারণ দর্শাতে বলেছে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরে থানায় মামলা নেওয়া হয়। ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

advertisement