advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আশুরায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতা করতে চেয়েছিল জামায়াত-শিবির

টাঙ্গাইল সদর প্রতিনিধি
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৭:১৮ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৯:৩৬
জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন কথা বলেন পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়।ছবি : আমাদের সময়
advertisement

দেশের বৃহত্তর স্থাপনা বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতার পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার গোপন বৈঠকের প্রস্তুতিকালে পরিকল্পনাকারী ৩৬ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর গোলাম মোস্তফা রঞ্জু (৫৪), গড়ালিয়া গ্রামের মো. হাসেন আলী(৫৫), বেতবাড়ী গ্রামের মহিউদ্দিন (২২), দক্ষিণ গোপালপুরের মো. ফারুক হোসেন (৩০), গংগাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ(৪৮), উত্তর গোপালপুরের মো. ইনছান আলী (২০), কোনাবাড়ী গ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম (৪৮), নবগ্রামের মো. আব্দুল মালেক (৬০), গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা সদরের পূর্বপাড়ার মো. শাহজাহান (৬২), টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কোনাবাড়ীর নুর মোহাম্মদ (৬৪), বিষ্ণুপুর গ্রামের আব্দুল আলীম (৩২), লক্ষীপুরের মো. হেলাল উদ্দিন(৬০), সোনামুই গ্রামের মো. শিব্বির আহম্মেদ (৫৯), গংগা পাড়ার মো. বাদশা মিয়া (৫৪), হাজেরাবাড়ীর ইউনুস আলী (৩৫), ভুটিয়া গ্রামের মো. আলাউদ্দিন (৫৫), জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম (৪৫)।

এ ছাড়া টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মধুপুর ভট্ট গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৪৫), বাখুরিয়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল জলিল (৬০), বেড়াডাকুরী গ্রামের মো. আব্দুস সবুর (৭০), খানপাড়ার আব্দুল কাইয়ুম (৪২), দক্ষিণ গোপালপুর চরপাড়ার মো. সোহাগ (১৯), চাতুটিয়ার মাসুদ করিম (৪০), মির্জাপুর উত্তরপাড়ার মো. নাছির উদ্দিন (২৪), মধ্য মন্দিরা গ্রামের মো. আশরাফ আলী (৪৪), ঝাওয়াইল গ্রামের আব্দুল হাকিম (৭৭), ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা চরপাড়া গ্রামের আব্দুল আলিম (৩২), গোপালপুর উপজেলার পাকুটিয়া গ্রামের মো. ছানোয়ার হোসেন (২৭), পলশিয়া গ্রামের মো. জুলহাস উদ্দিন (৫৬), কোনাবাড়ীর মো. ফরমান আলী (২৮), একই এলাকার হেকমত আলী (২৮), জোতবাগল গ্রামের বিজয় হোসেন মাসুদ (৩০), মোহনপুর গ্রামের নাঈম খন্দকার(৪৪), কোনাবাড়ীর ছেলে মো. আশরাফ আলী(৬৭), জোতবাগল গ্রামের মো. রাসেল রানা (২০) এবং সোনামুই গ্রামের ফরহাদ হোসেন (৩০)। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশের বাড়ি গোপালপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এবং অধিকাংশই শিক্ষকতা পেশায় জড়িত।

পুলিশ জানায়, দেশের বৃহৎ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল জামায়াত-শিবির। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আগেও তারা নৌকা ভ্রমণের নামে সেতু এলাকায় রেকি করেছে। তারা নৌকা ভ্রমণে গিয়ে সরকার উৎখাতে নানাবিধ পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা ও আপত্তিকর স্লোগান দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে তারা বঙ্গবন্ধুসেতুতে নাশকতার জন্য যমুনা নদীতে নৌকা ভ্রমণে যাওয়ার উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজারে সমবেত হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গোপনে খবর পেয়ে হেমনগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ নৌকায় ওঠার সময় অভিযান চালিয়ে ৩৬ জন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে কিছু জিহাদি বই, নাশকতার জন্য উঠানো চাঁদার রশিদ, সাউন্ড সিস্টেম এবং খাওয়া-দাওয়ার সামগ্রী জব্ধ করা হয়।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তারা দেশের সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর স্থাপনা বঙ্গবন্ধুসেতুতে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা বনভোজনের নামে সেতু এলাকায় একাধিকবার রেকি করেছে।

সঞ্জিত কুমার রায় জানান, এর আগেও তারা নৌকা ভ্রমণে গিয়ে সরকার উৎখাতে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করেছে এবং সরকার বিরোধী আপত্তিকর স্লোগান দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে তারা নাশকতার অংশ হিসেবে যমুনা নদীতে নৌকা ভ্রমণের নামে রেকি করার জন্য গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজারে একত্রিত হয়।

তিনি জানান, গোপনসূত্রে সংবাদ পেয়ে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে হেমনগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের হেমনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আনা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার পবিত্র আশুরার অনুষ্ঠান ছিল। এদিন জেলায় নাশকতা হওয়ার আশঙ্কায় জেলা পুলিশ আগে থেকেই তৎপর ছিল। গ্রেপ্তারকৃতসহ ৫৯ জন ও আরও অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের নামে গোপালপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫ডি ধারায় উপপরিদর্শক (এসআই) মালেক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে ১৮ জনের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

advertisement