advertisement
International Standard University
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কাউন্সিল হবে ছাত্রদলের, দলাদলি বিএনপিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১১:৫৩
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

ছাত্রদলের নেতৃত্ব নিজেদের অনুকূলে নিতে বিএনপি নেতারাই এখন বেশি সক্রিয়। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটি, আপিল কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও দলাদলিতে জড়িয়ে পড়েছেন।
বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে বিএনপি নেতারাই যেন বেশি উদ্বিগ্ন। কারণ ছাত্রদলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের একটি পদ নিজের ‘দখলে’ রাখতে পারলে সারাদেশে তার প্রভাব থাকবে বেশি। এ জন্য সিনিয়র নেতারা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে জোর লবিং শুরু করেছেন। এবার নির্বাচনে আঞ্চলিকতাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। অঞ্চলভিত্তিক বিএনপি নেতারা একাট্টা হয়ে নিজের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।
ছাত্রদলের সভাপতি পদে প্রার্থী ৯ জন। তাদের মধ্যে ফজলুর রহমান খোকনের পক্ষে উত্তরাঞ্চলের নেতারা মাঠে নেমেছেন। কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের পক্ষে ছাত্রদলের সাবেক এক সভাপতি ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের নেতারা সক্রিয়। আরেক সভাপতি প্রার্থী হাফিজুর রহমানের পক্ষে খুলনা বিভাগের সাবেক ছাত্রনেতাদের একটি অংশ কাজ করছে। সভাপতি পদে শ্রাবণ ও খোকনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের
আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ছাত্রদল নেতা মামুন খান শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ১৯ জন। এর মধ্যে শাহ নাওয়াজের পক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। এ পদে তাকে এগিয়ে রাখছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া সাইফ মাহমুদ জুয়েলের পক্ষে রয়েছেন বরিশাল অঞ্চলের সাবেক কয়েকজন ছাত্রদল নেতা। ওই অঞ্চলের আরেক প্রার্থী তানজিল হাসান। দুজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী থাকায় বরিশাল অঞ্চলের ভোট ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আমিনুর রহমান খুলনা অঞ্চলের। তার পক্ষে রয়েছেন হাওয়া ভবনের সাবেক এক কর্মকর্তাসহ এক ছাত্রদল নেতা। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হাওয়া ভবনের ওই কর্মকর্তার হঠাৎ সক্রিয় হওয়াটা ভালোভাবে দেখছেন না কেউ। খুলনা বিভাগের আরেক প্রার্থী আবু তাহের। তার পক্ষে কাজ করছেন ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির এক নেতা।
জানা গেছে, নরসিংদীর সন্তান ইকবাল হোসেন শ্যামল ছাত্রদলের সদ্য সাবেক এক শীর্ষস্থানীয় নেতার প্রার্থী। আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জাকিরুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনায়। তার পক্ষে রয়েছেন ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির আরেক শীর্ষ নেতা এবং সাবেক এক ছাত্রদল নেতা। মিজানুর রহমান শরীফের বাড়িও নেত্রকোনায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শরীফও আছেন লড়াইয়ে।
অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। গত সপ্তাহে দুজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ঢাকা মহানগরের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ছাত্রদলের সাবেক এক সভাপতি তার খুলনা অঞ্চলের এক প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছে বলে কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
আগামী শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বা গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। সংগঠনটির ১০ সাংগঠনিক বিভাগের ১১৬ শাখায় ৫৬৬ জন ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ছাত্রদলের প্রতিটি শাখার শীর্ষ পাঁচজন নেতা কাউন্সিলে ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৯ শাখায় ৪৫ ভোট, ঢাকা বিভাগের ২৯ শাখায় ১৩৮, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ শাখায় ৫৮, কুমিল্লা বিভাগের ৬ শাখায় ৩০, খুলনা বিভাগের ১৪ শাখায় ৭০, ময়মনসিংহ বিভাগের ৯ শাখায় ৪৫, রাজশাহী বিভাগের ১১ শাখায় ৫২, সিলেট বিভাগের ৭ শাখায় ৩৫, রংপুর বিভাগের ১৩ শাখায় ৬৩ এবং ফরিদপুর বিভাগের ৬ শাখায় ৩০ ভোট রয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হবে।
কাউন্সিলররা বলছেন, আঞ্চলিকতার পাশাপাশি প্রার্থীর যোগ্যতা, ত্যাগ ও ব্যক্তিত্ব দেখে ভোট দেবেন তারা। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি খুরশেদুল আলম বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেব। সংগঠনের প্রতি প্রার্থীর ত্যাগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যক্তিত্বÑ এ তিনটি বিষয়কে নেতা নির্বাচনে প্রাধান্য দেব।
বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুল আলম মিঠু বলেন, যারা বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিল এবং আগামীতেও খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে রাজপথে থাকার কমিটমেন্ট করবেন তাদেরই ভোট দেব।
বিগত দিনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এমন প্রার্থীকে নেতৃত্বে দেখতে চান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি এ এ রাকিবও।

advertisement