advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কমিউনিটি ব্যাংকের কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৩
advertisement

কমিউনিটি ব্যাংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্যাংকটি উদ্বোধন করেন তিনি। বাংলাদেশ পুলিশ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মালিকানাধীন এই ব্যাংকটির লক্ষ্য বিভিন্ন কমিউনিটির সদস্যদের কাছে পৌঁছানো এবং উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সেবা দেওয়া।

প্রথমে ৬টি শাখা নিয়ে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হলো। এর দুটি ঢাকার গুলশান ও মতিঝিলে এবং একটি করে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, গাজীপুরের শ্রীপুর মাওনা, নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি ও হবিগঞ্জের নোয়াপাড়ায়। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বরে লাইসেন্স পায় ব্যাংকটি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. মুস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী কমিউনিটি ব্যাংকের বিষয়ে ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ,

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর পুলিশের বিদায়ী কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে উপস্থিত পুলিশ সদস্য এবং কমিউনিটি ব্যাংকের গুলশান শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকা অপরিহার্য। এ দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ বাহিনীর ওপর বর্তায়। আমি আশাবাদী, পুলিশ এখন যেভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে, তেমনি ভবিষ্যতেও করবে। পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সরকার দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুন্দর ও উন্নত জীবন পাবে।

পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি থানা সুন্দর ও দর্শনীয় স্থান হওয়া উচিত, যেগুলো হবে সাধারণ মানুষের আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের স্থান। মাদকের বিরুদ্ধে আরও তীব্র আকারে অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ভূমিকা অনেক প্রশংসনীয়। এ জন্য তাদের জীবনও বিসর্জন দিতে হচ্ছে। ২০১৩-২০১৫ সালের বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওই সময় আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসের রাজত্ব চালিয়েছিল, তখন ২৬-২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জীবন দিতে হয়েছিল।

এ সময় তিনি পুলিশে নিয়োগের প্রশংসা করে বলেন, সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করে পুলিশ বাহিনী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এ নিয়োগে দায়িত্বপ্রাপ্তরা অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সময় নিহত হলে সামান্য কিছু টাকা সাহায্য দেওয়া হতো। তাদের সাহায্য বৃদ্ধির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কল্যাণ ট্রাস্টের প্রস্তাব এসেছিল। আমরা ট্রাস্ট করে দিয়েছি। আমরা বেসরকারি খাতেও ব্যাংক দিয়েছি। ব্যাংকিং সেবাটা এখন উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আমরা কৃষকদের ১০ টাকায় হিসাব খোলার সুযোগ দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সবচেয়ে ভালো কাজ করছে আমাদের নারী পুলিশ সদস্যরা। আমি যখন জাতিসংঘে যাই, জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল আমাকে বারবার অনুরোধ করেন, আমি যেন আরও অধিকসংখ্যক নারী পুলিশ পাঠাই। এ অবস্থান সৃষ্টির জন্য আমি বাংলাদেশ পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম মেয়েদের পুলিশে চাকরির ব্যবস্থা করেন বলেও জানান তিনি।

চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন

দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎকেন্দ্র কাপ্তাইয়ে এবার যোগ হলো ৭ দশমিক চার মেগাওয়াটের একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মালিকানাধীন ‘কাপ্তাই ৭.৪ মেগাওয়াট সোলার পিডি গ্রিড কানেকটেড বিদ্যুৎকেন্দ্রের’ উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া আরও ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ১০ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন উদ্বোধন করেন তিনি।

কাপ্তাইয়ের এ কেন্দ্রটিই দেশের একমাত্র সরকারি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর আগে বেসরকারি খাতে আরও তিনটি গ্রিড সংযুক্ত সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৪২৮ মেগাওয়াটের ৩টি তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছেÑ প্যারামাউন্ট বি-ট্রাক এনার্জি লিমিটেডের বাঘাবাড়ী ২০০ মেগাওয়াট, ইউনাইটেড পাওয়ারের জামালপুর ১১৫ মেগাওয়াট এবং কনফিডেন্স পাওয়ার লিমিটেডের বগুড়া ১১৩ মেগাওয়াট। তিনটি কেন্দ্রই তেলচালিত। কেন্দ্রগুলো পিকআওয়ার বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময় এবং গ্রীষ্মের সংকট সামাল দিতে নির্মাণ করা হয়েছে। সারাদেশে আরও ৪৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন। এগুলোর উৎপাদনক্ষমতা ১৬ হাজার ১৩৮ মেগাওয়াট। আরও আটটি কেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন।

মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে চায়। এখন পর্যন্ত ২১১ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। গতকাল আরও ১০ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হচ্ছেÑ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, চাঁদপুরের দক্ষিণ মতলব, জয়পুরহাটের সদর উপজেলা; পাঁচবিবি ও আক্কেলপুর, রাজশাহীর পবা, নারায়ণগঞ্জের সদর ও রূপগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ।

রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রটি বাস্তবায়িত হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে। এটি থেকে ২৫ বছর সেবা পাওয়া যাবে। প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ ফারুক জানান, সৌরশক্তির সাহায্যে পরিচালিত এ সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের ২ মেগাওয়াট ব্যয় হবে কেন্দ্রে। বাকি ৫ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে জাতীয় গ্রিডে।

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে অন্য প্রান্তে ছিলেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। তার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইনুর রহমান, জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল ইসলাম, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বায়েদ মিঞা, চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায়, পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, মুরগি খামারি আক্তার হোসেন ও রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।

advertisement