advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মানবিক বিশ্ব গড়ার ডাক

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৩
advertisement

দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ১০ দিনের আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ প্রাঙ্গণে মাহফিলের শেষ দিন গত মঙ্গলবার আহলে বায়তপ্রেমীদের ঢল নামে। এদিন সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, কাশ্মীরসহ সারাবিশ্বে নির্যাতন-নিপীড়ন-হত্যাযজ্ঞ থামাতে জাতিসংঘ, ওআইসি, আরব লিগ ও বিশ্ব সংস্থাগুলোকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়ে মানবিক বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান দেশি-বিদেশি বক্তারা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতেও বিশ্বনেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাইজভা-ার দরবার শরিফের সাজ্জাদানশিন পীরে তরিকত শাহ সুফি মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (ম.জি.আ)। প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী

নওফেল। বিদেশি আলোচক ছিলেনÑ ইরাকের বাগদাদ শরিফের বড়পীর শেখ সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানির (রা) বংশধর শাহ সুফি আল্লামা সৈয়দ আফিফ আবদুল কাদের মনসুর আল-জিলানি আল-বাগদাদি, ভারতের কাসওয়াসা দরবার শরিফের আল্লামা সৈয়দ মাহমুদ আশরাফ আল-আশরাফি আল-জিলানি ও মিসরের কারি মুহাম্মদ রিদওয়ান গোম্মাহ ইউনুছ।

শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, কারবালায় দ্বীন ইসলামকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন আহলে বায়তে রাসুল (স) ও ইমাম হোসাইন (রা)। আজও ইয়াজিদি দোসররা থেমে নেই। কিন্তু যুগে যুগে ইয়াজিদিরা ধ্বংস হয়েছে। ইয়াজিদি খারেজিরা সুন্নিয়তের শত্রু। যারা সুন্নিয়তকে ধ্বংস করতে চায়, সম্মিলিত শক্তি দিয়ে তাদের প্রতিহত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী বলেন, নবী পরিবার তথা আহলে বায়তে রাসুলের (স) সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা দ্বীন ইসলামের নিয়ামত লাভ করেছি। তাই আহলে বায়তে রাসুলের (স) স্মরণ করতে হবে, যেন তাদের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে নাজাতের ভাগিদার হতে পারি। শাহাদাতে কারবালার চেতনা ও দর্শন হচ্ছেÑ ভোগ নয়, ত্যাগ।

মাহফিলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন জমিয়াতুল ফালাহ শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদ এবং পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই কষ্টের পর সুখ আসে। পরিশ্রম ও ত্যাগ ছাড়া সুখ আসে না। জীবনে সুখ-শান্তি চাইলে অহঙ্কার, হিংসা ও পরনিন্দা করার অভ্যাস বর্জন করতে হবে। আমরা কারবালার শোককে শক্তিতে পরিণত করব।

এ ছাড়া মাহফিলে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. আল্লামা একেএম মাহবুবুর রহমান, ড. মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আজহারি, মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

অধ্যাপক মাওলানা জিয়াউল হক রিজভির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসেন ও মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ড. মাওলানা আবু তৈয়্যব মুহাম্মদ লিয়াকত আলী, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল হাশেম, ব্যারিস্টার আবু সাঈদ মুহাম্মদ কাসেম, মাসুদুর রহমান আশরাফি, সাবেক কমিশনার বদিউল আলম, সৈয়দ সেহাব উদ্দীন আলম, অধ্যক্ষ আল্লামা তৈয়ব আলী প্রমুখ।

advertisement