advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডেঙ্গুতে দুই দিনে ৬ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৩
advertisement

সারাদেশে সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও প্রাণহানি থামছে না। লক্ষণীয় হলো, গত কিছুদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যে কয়জন মারা গেছেন তাদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরের রোগী। এর মধ্যে গত দুদিনেই ছয় জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬ জন। এ ছাড়া গতকাল বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে খাদিজা আক্তার নামে আড়াই বছরের এক শিশু।

সূত্র বলছে, এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৭শ থেকে ৮শ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বাইরের রোগীই বেশি। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে ঢাকার ২২১ জন এবং ঢাকার বাইরের ৪১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্তদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর। গত ৫ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগী বেশি ছিল। এর মধ্যে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রোগী ছিল ৩৩১ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৫৭ জন। ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ছিল ৩২৫

জন ও ঢাকার বাইরে ৪৬৮ জন; ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ২৩৩ জন ও ঢাকার বাইরে ৩৭৪ জন; ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ৩১৪ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৪৭ জন; ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ৩০০ জন ও ঢাকার বাইরে ৪১৬ জন; ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ২৯৪ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৫৯ জন। গতকালও এ ধারা অব্যাহত ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার জানান, ঢাকার ১২টি সরকারি ও ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালসহ মোট ৪১ প্রতিষ্ঠান থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রাজধানীর বাইরের ৬৪টি জেলার সিভিল সার্জনদের অফিস থেকে তথ্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে ৬৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। যাদের মধ্যে রাজধানীর ২২১ জন এবং রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোর ৪১৩ জন রয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, ঢাকার বাইরে আট বিভাগের ৬৪ জেলায় এ পর্যন্ত ৪৪ হাজার ২০১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮ হাজার ৭১২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ হাজার ৯৯৫ জন, খুলনা বিভাগে ৬ হাজার ৫১৬ জন, রংপুর বিভাগে ১ হাজার ৮২৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৭৪৪ জন, বরিশাল বিভাগে ৪ হাজার ৭৮৭ জন, সিলেট বিভাগে ৮৪৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ হাজার ৯৯৫ জন রয়েছেন। ঢাকার বাইরের ডেঙ্গু রোগীদের ৩২ হাজার ৬৪৭ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।

আক্রান্ত ৬ জনের মৃত্যু

গত দুদিনে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৭ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ১ জন, খুলনা ১ জন, যশোরে ১ জন, ঝিনাইদহ ১ জন, সাতক্ষীরা ১ জন, বরিশালে ১ জন ও মাদারীপুরের ১ জন রয়েছে।

গতকাল বিকালে ঢামেক হাসপাতালে মারা যায় খাদিজা আক্তার নামে আড়াই বছরের এক শিশু। তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল থেকে কালই ঢামেকে আনা হয়েছিল। শিশুটির বাবার নাম মো. ইসমাইল। তারা রাজধানীর ধনিয়ায় নাছির উদ্দীন রোডে পরিবারের সঙ্গে থাকত।

খুলনা : ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে মারা যান রহিমা বেগম (৫০) নামে এক নারী। তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আটারই গ্রামের রফিকুল ইসলাম মোড়লের স্ত্রী।

যশোর : মনিরামপুরে ডেঙ্গুজ্বরে জাহিদা খাতুন (৩৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল যশোর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান। জাহিদার বাড়ি মনিরামপুরের হায়াতপুর গ্রামে।

ঝিনাইদহ : মঙ্গলবার ডেঙ্গুজ্বরে মহেশপুর উপজেলায় সিদ্দিক মুন্সি (৪০) নামে এক ব্যক্তি মারা যান। তিনি ওই উপজেলার যোগিহুদা গ্রামের হেকিম মুন্সির ছেলে।

ফরিদপুর : ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মধ্যরাতে সিদ্দিক মাতুব্বর (৫৫) নামে একজন মারা যান। তিনি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদী গ্রামের বাসিন্দা।

বরিশাল : ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় ফারহাদ হোসেন জিহাদ (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র। জিহাদ মুলাদী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্য চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে।

advertisement