advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জাপার একাংশে ক্ষোভ, নিষ্ক্রিয় আওয়ামী লীগ

নজরুল মৃধা রংপুর
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১১:৩৭
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে যাচাই-বাছাই শেষে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপিসহ সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র। যদিও আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে, এমন শঙ্কায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচন নিয়ে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে এখনো ক্ষোভ বিরাজ করছে জাপার একাংশে। দলের অনেকেই প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।

রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম রাজু, জাতীয় পার্টির রাহগির আল মাহি সাদ, বিএনপির রিটা রহমান, স্বতন্ত্র আসিফ শাহরিয়ার, এনপিপির শফিউল আলম, গণফ্রন্টের কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান ম-লের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঋণখেলাপি ও বিধি অনুযায়ী হলফনামা দাখিল না করাসহ বিভিন্ন কারণে রংপুর মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি কাওসার জামান ও বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির নেতা একরামুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে তারা প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য তিন দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ কর্মকর্তা আরও জানান, উপনির্বাচনকে ঘিরে গত মঙ্গলবার থেকে চার ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নগরীর টহল জোরদার করেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন কিংবা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

এদিকে জতীয় পার্টিতে দেবর-ভাবির (জিএম কাদের ও রওশন এরশাদ) সমঝোতা হলেও রংপুরে দলের একাংশে এখনো রয়ে গেছে ক্ষোভ। আর তা দূর করতে না পারলে দলের জন্য ক্ষতি হতে পারে বলে মন্তব্য করছেন জাপার অনেকেই। তাদের ধারণা, এ আসনে আওয়ামী লীগ বাদেও সাদের শক্ত প্রতিপক্ষ হচ্ছেন এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ যদি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়, তা হলে সাদের প্রতিপক্ষ হবেন আসিফ।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, ‘জিএম কাদের যদি নিজের অবস্থান শক্ত করতে না পারেন, তা হলে দলকে শক্তিশালী করা তার পক্ষে কঠিন হবে। মনোনয়ন বোর্ড আমাকে সিলেক্ট করলেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সাদকে। রংপুরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন করেছেন। মনোনয়ন পরিবর্তন করে শুধু আমাকেই নয়, রংপুরবাসীকেও অপমান করা হয়েছে।’

জাপার তৃণমূল নেতাদের ধারণা, আওয়ামী লীগ রংপুর-৩ আসনে তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মী দলের নির্বাচনী কর্মকা- থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন। তখন সাদেরও জয়লাভ করা কঠিন হয়ে পড়বে। জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল অবশ্য বলছেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত আশাবাদী, আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে শেষ পর্যন্ত যদি জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছাড় দেওয়া হয়, তবে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

 

advertisement