advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করবে নিরাপত্তা সেল

ইউসুফ আরেফিন
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৯:০০
advertisement

নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটিকে সহায়তা দিতে নতুন করে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সেল (এনএসসি) গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে মূলত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করবে এ সেল; যেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াকে এ সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা করে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অথবা যোগদানের তারিখ থেকে তার এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

সচিবালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১১ জুলাই সরকারের প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় ‘জাতীয় নিরাপত্তা সেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এরই আলোকে নতুন এ সেল গঠন করা হলো। তবে এখন পর্যন্ত এই কার্যপরিধি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ কোনো দিকনির্দেশনা জারি হয়নি। অবশ্য এখন পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে, প্রধান নির্বাহীর নেতৃত্বে মোট ৮ জন এ সেলে কাজ করবেন। তাদের মধ্যে একজন প্রধান নির্বাহীর স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যিনি সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব বা সহকারী সচিব পদমর্যাদার হবেন। থাকবেন একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন কম্পিউটার অপারেটর, একজন অফিস সহকারী এবং তিনজন গাড়িচালক। নিরাপত্তা সেলের কার্যালয় কোথায় হবে তা এখন পর্যন্ত ঠিক করা না হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশপাশেই এর দপ্তর থাকবে।

আছাদুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে নিরাপত্তা সেলটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীন। সেলের কাজ হবে মূলত বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও রিভিউ করা। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সেল নির্দেশনা প্রদান করবে। প্রয়োজনে সেল তাদের

এ সংক্রান্ত সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ সভায় বিবেচনার জন্য প্রণয়ন করতে পারবেন। একইভাবে জাতীয় নিরাপত্তা সেল নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটিকে সহায়তা প্রদান করতে পারবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটিকে সহায়তা প্রদানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সেল হিসেবেই কাজ করবে এটি। ভবিষ্যতে এ্র কার্যক্রম ও কার্যপরিধি আরও বিস্তৃত হবে। চূড়ান্ত কার্যপরিধি নির্ধারণের পর এটি পরিষ্কার হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, আছাদুজ্জামানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই সরকার জাতীয় নিরাপত্তা সেল গঠন করে তাকে এ পদে বসিয়েছে। পদাধিকার বলে তিনি ‘নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’র সদস্য হবেন। প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক। এ কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৮ জন মন্ত্রী ও ২ জন প্রতিমন্ত্রী সদস্য।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সেনাপ্রধান, নৌবাহিনীপ্রধান, বিমানবাহিনীপ্রধান, পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করছে। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি দেশের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা ও কার্যক্রমের পুনঃনিরীক্ষণ করে থাকে। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির মূল্যায়ন ও পুনঃনিরীক্ষণ করে নিরাপত্তা কমিটি।

 

 

advertisement