advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সরকার ও দুদককে তৎপর হতে হবে

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৪
advertisement

দেশের স্বার্থেই উন্নয়ন হবে এবং জাতির স্বার্থেই সব স্তরের কর্মকর্তাদের দুর্নীতিমুক্ত রাখা জরুরি। আশা করি, সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে

বাংলাদেশে এখন অনেক বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। কিন্তু এগুলোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দুর্নীতির খবরও শোনা যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুকুরচুরির মতো ঘটনাও ঘটছে। ইতিপূর্বে রূপপুর প্রকল্পে আবাসিক ভবনের জন্য বালিশ ও বিছানা ক্রয়ে পুকুরচুরির ঘটনা সবাই জানে। এর পর ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়ন প্রকল্পের পর্দা ক্রয় নিয়েও একই রকম ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫ হাজার টাকার বই কিনেছে ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে। এবার দেখা যাচ্ছে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশিক্ষণ নেওয়ার নামে কর্মকর্তারা আনন্দ ভ্রমণে বিস্তর টাকা খরচ করছেন। চট্টগ্রাম ওয়াসার বড় আকারের একটি উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়ন হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার চিটাগং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রজেক্ট বাস্তবায়নের কাজে ওয়াসার কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণের জন্য উগান্ডা সফর করছেন। এটি একটি বিস্ময়কর তথ্য, কেননা সব দিক দিয়েই উগান্ডা বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে আছে। বর্তমানে আমাদের গড় আয় ১ হাজার ৯০৯ ডলার আর উগান্ডার মাত্র ৭২৫ ডলার। আমাদের পুরুষ ও নারীর গড় আয়ু যথাক্রমে ৭০ দশমিক ৮ ও ৭৩ দশমিক ৮ বছর; উগান্ডার ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে ৫৪ ও ৫৫ বছর। উগান্ডার পানি ব্যবস্থাপনা আমাদের চেয়ে ভালো, এমন কোনো তথ্য নেই। ওদের দেশে এখনো ৬১ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত এবং ৭৫ শতাংশের উন্নত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার সুুবিধা নেই। ফলে এটা পরিষ্কার, আমাদের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণের নামে আফ্রিকার এই প্রাকৃতিক শোভাম-িত দেশটিতে আনন্দ ভ্রমণে যাচ্ছেন।

তার আগে রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গে পুকুর খননের জন্য বিশ্বব্যাংকের আরেকটি প্রকল্পে কর্মকর্তারা উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য হল্যান্ডে গেছেন। এই দিঘি, পুকুর ও খাল-বিলের দেশের মানুষ পুকুর খননে প্রশিক্ষণের জন্য অন্য একটি দেশে যাবেন, সেটাও বিস্ময়ের বিষয়। বলা হচ্ছে, প্রকল্প প্রস্তাবনায় এ ধরনের ভ্রমণের খাত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বব্যাংকের নির্দেশনাতেই এ ধরনের আনন্দ ভ্রমণ ও অপচয়ের উৎসব চলছে।

আমরা মনে করি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। এসব ক্ষেত্রে বিদেশি সাহায্যও নিতে হবে। কিন্তু প্রকল্প প্রণয়ন এবং অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিজ দেশের স্বার্থ ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, একের পর এক প্রকল্পে সরকারের তদারকিতে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে এবং দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গাইতেও শোনা যাচ্ছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি, দেশের স্বার্থেই উন্নয়ন হবে এবং জাতির স্বার্থেই সব স্তরের কর্মকর্তাদের দুর্নীতিমুক্ত রাখা জরুরি। আশা করি, সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

advertisement