advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রতিরোধ কার্যক্রমের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৪
advertisement

সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছর বাড়ছে আত্মহত্যা। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আত্মহত্যাকে মানসিক অসুস্থতার চেয়ে বড় অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ফলে আত্মহত্যার প্রবণতা হ্রাস করা যাচ্ছে না। আত্মঘাতীর মতো সামাজিক সমস্যা রোধ করা জরুরি।

আমাদের সময় সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন আত্মহত্যা করে। আর প্রায় ৬৫ লাখ ব্যক্তি রয়েছেনÑ যারা আত্মহত্যাপ্রবণ। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান জানায়, বাংলাদেশে ১৪ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ। আত্মহত্যার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উচ্চআকাক্সক্ষা, ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যা, গুরুতর মানসিক রোগ, মাদকাসক্তি, অস্থিরতা, বেকার, হতাশা কিংবা প্ররোচনা, লিঙ্গ, বিয়ে, ধর্ম, বসবাসের অবস্থান, অর্থনৈতিক অবস্থা ও সামাজিক নৈরাজ্য। আবেগতাড়িত ও পরিকল্পিতÑ এ দুই ধরনের আত্মহত্যা হয়। তবে দেশে আবেগতাড়িত আত্মহত্যার পরিমাণ বেশি। এটি একটি মানসিক সমস্যা। এ সমস্যা থেকে বের করতে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিতে হবে। সেজন্য সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে এ ধরনের ঝুঁকি থেকে বাঁচানো সম্ভব। আইনে অপরাধের কথা থাকলেও এর প্রয়োগ নেই। তবে অনেকেই আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের অপরাধী ভেবে মানসিক চিকিৎসা করানো থেকে দূরে থাকে।

মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যায় একাধিকবার চেষ্টার প্রবণতাও রয়েছে। আত্মহত্যা ও আত্মঘাতী প্রতিরোধের জন্য যথেষ্ট মানসিক চিকিৎসালয় এবং কাউন্সেলিং সেন্টারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় আত্মহত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটলেও জেলা পর্যায়ে ওইসব ব্যক্তির মানসিক রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার। সঠিক সামাজিকীকরণ, শক্তিশালী ও কার্যকর সামাজিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধগুলো ধারণ ও লালন এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের যে সংহতি স্থাপিত হবে, তা-ই হবে আত্মহত্যা নিরসনের মূল হাতিয়ার। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি নানাবিধ উদ্যোগ নিতে হবে।

advertisement