advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘মায়াবতী’র মায়া

ফয়সাল আহমেদ
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৫
advertisement

আগামীকাল দেশের ২০ সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মায়াবতী’। ছোটপর্দায় সুপরিচিত নির্মাতা অরুণ চৌধুরীর পরিচালনায় এ ছবিতে জুটি হয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও ইয়াশ রোহান। ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট ব্যাপ্তির এ ছবির গল্প গড়ে উঠেছে নারীপাচার ঘিরে। সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা চিত্রায়িত হয়েছে এ চলচ্চিত্রে। নিটোল প্রেমের গল্পের পাশাপাশি পরিচালক অরুণ চৌধুরী এতে সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘মায়া নামের এক কিশোরী ছোটবেলায় তার মায়ের কাছ থেকে চুরি হয়ে যায়। পাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে সে। তাকে দৌলতদিয়ার যৌনপল্লীতে বিক্রি করা হয়। সেখানে মায়াকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন গানের গুরু খোদা বক্স। ওদিকে মায়ার গানের প্রেমে পড়েন একজন ব্যারিস্টার। একসময় ভয়ঙ্কর খুনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে মেয়েটি। শুরু হয় নতুন গল্প। নতুন সংগ্রাম। ‘মায়াবতী’ নির্মাতা অরুণ চৌধুরীর দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। তার প্রথম ছবি ‘আলতাবানু’। দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সাফল্যের বিষয়ে দারুণ আশাবাদী পরিচালক অরুণ চৌধুরী। দর্শক ‘মায়াবতী’ দেখে নিরাশ হবেন না বলেও জানান তিনি। অরুণ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ২০টি হলে মুক্তির পরিকল্পনা করেছি। যদিও জাজ মাল্টিমিডিয়া ৪০টিতে মুক্তি দিতে চাচ্ছে। কিন্তু এখনই এতগুলো হল চাচ্ছি না। প্রথম সপ্তাহে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে আমরা কতগুলো হল বাড়াব, সেই সিদ্ধান্ত নেব। আর এখন ঢাকার যে হলগুলোতে দর্শক বেশি হয়, সেগুলোতে মুক্তি দিচ্ছি।’ প্রসঙ্গক্রমে অরুণ চৌধুরী বলেন, “আমার মতে প্রতিটি সিনেমা মূলধারার। প্রতিটি সিনেমা নির্মাণ করা উচিত দর্শকদের কথা মাথায় রেখে। ফর্মুলার বাইরের সিনেমাগুলোর দর্শক দিন দিন বাড়ছে। আমাদের নির্মাতা মনে করেন ফর্মুলা সিনেমা নির্মাণ করলেই দর্শকরা দেখবেন। আমি সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, ‘মনপুরা’, ‘আয়নাবাজি’, ‘দেবী’ এগুলো কোনো ফর্মুলা সিনেমা নয়। কিন্তু দর্শক দেখেছেন। দর্শকরা কিন্তু সিনেমা দেখতে চান। আমরা নির্মাতারা তাদের টানতে পারছি না।”

‘মায়াবতী’ ছবির কাজে আগ্রহী হলেন কেন? এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশাকে। তিনি বলেন, “আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকে গল্প, চরিত্র, নির্মাতাÑ এই তিন বিষয়ে আমি কখনো ছাড় দিইনি। ‘মায়াবতী’ ছবির শক্তি, পরিচালক অরুণদার গল্প। গল্পটা আমার মন ছুঁয়ে গেছে। গল্প শুনে মনে হয়েছে ছবিতে প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি আনন্দ-বেদনাও রয়েছে। আর ছবির মধ্যে একটি শক্তিশালী বক্তব্য রয়েছে, তা হলো মানুষের ‘না’ বলার অধিকার আছে। এই ‘না’টাকে সবারই শ্রদ্ধা করা উচিত। সর্বোপরি ‘মায়া’ চরিত্রটি আমাকে বেশ টেনেছে। তাই অভিনয়ে একবাক্যে রাজি হয়েছি।” তিশা কখনই চরিত্র বাছাইয়ে ভুল করেন না। এর প্রমাণ তিনি বহুবারই দিয়েছেন। নানা চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভাঙতে দারুণ পারদর্শী তিনিÑ এ কথা তার ভক্ত দর্শকরা বলে থাকেন। তাদের কথায় এটাই প্রমাণ হয়, এক যুগের বেশি সময় ধরে তিশা যেসব নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন, প্রতিবারই নিজেকে ভাঙার প্রয়াস ছিল নন্দিত এই অভিনেত্রীর। ছোটপর্দার মতো চলচ্চিত্রেও তিশা নিজেকে নানারূপে তুলে ধরেছেন। আর এ কারণে তিশা আজ অগণিত দর্শকের প্রিয় অভিনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। ভাষা আন্দোলনের ওপর ছবি উপহার দেওয়ার পর এবার তিশা বড়পর্দায় আসছেন ‘মায়াবতী’ নিয়ে। ইতোমধ্যে ট্রেলার বেশ প্রশংসিত হয়েছে। প্রথমবার এ ছবিতে তিশা অভিনয় করেছেন নাম ভূমিকায়। অর্থাৎ ‘মায়া’ চরিত্রে। তিশা থেকে ‘মায়া’ হয়ে ওঠার জার্নিটি কেমন ছিল? “যে কোনো চরিত্রে অভিনয়ের আগে সে চরিত্রের জীবনধারা সম্পর্কে আগেই জানার চেষ্টা করি। যে গল্প আমাকে ভাবায় সে গল্পে কাজ করতে ভালোবাসি। এ জন্য দু-তিন মাস পর্যন্ত সময় নেই, যাতে অভিনীত চরিত্রটি বাস্তব বলে মনে হয়। নাটক ও টেলিছবির ক্ষেত্রে আলাদা প্রস্তুতি নেওয়ার খুব একটা সুযোগ থাকে না। কিন্তু চলচ্চিত্রের জন্য প্রস্তুতি না নিলেই নয়। দাদা (অরুণ চৌধুরী) আমাকে প্রথম যখন গল্পটি শুনিয়েছেন, তখন থেকে মায়া চরিত্রের মধ্যে শুরু হয় বসবাস। তখন মায়ার সঙ্গে রিলেটেড যেসব চরিত্র আছে তা বোঝার চেষ্টা করেছি। শুটিংয়ের জন্য এর আগে আমি তিনবার দৌলতদিয়ায় এসেছি। ওই জায়গার মানুষ সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা ছিল। ‘মায়া’ চরিত্রটির গ্রহণযোগ্য করতে আমি যাদের স্টাডি করতে পারব তাদের কাছে গিয়েছি। সহশিল্পী হিসেবে ইয়াশ রোহানসহ অনেকের সহযোগিতা পেয়েছি।”

কথার পিঠে অনেক কথা হলো। সর্বশেষ ‘মায়াবতী’ ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘ছবিতে ফজলুর রহমান বাবু, রাইসুল ইসলাম আসাদ, দিলারা জামান, মামুনুর রশীদ, ওয়াহিদা মল্লিক জলির মতো গুণী শিল্পীরা অভিনয় করেছেন। তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ।’ বর্তমান কাজের ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিশা বলেন, ‘নতুন চলচ্চিত্রের ব্যাপারে কথাবার্তা হচ্ছে। এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। আপতত সব ব্যস্ততা আমার মায়াবতীকে ঘিরেই। এর প্রচারে আরও কয়েকটি দিন ব্যস্ত সময় কাটবে।

কথামালার একপর্যায়ে হাজির হলেন ইয়াশ রোহান। আড্ডায় পেল অন্যরকম গতি। তার কাছে জানতে চাইলাম, সহশিল্পী হিসেবে তিশার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? “প্রথমদিকে তার সঙ্গে অভিনয় করতে একটু ভয় পেয়েছিলাম। ভয়টা হচ্ছে, সে একজন অভিজ্ঞ শিল্পী। আমি তো নতুন এসেছি। এক ছবির নায়ক। তিশার সঙ্গে যখন প্রথম ‘বেদের মেয়ে’ নাটকের শুটিং করেছি। ওই সময় বেশ নার্ভাস ছিলাম। পরে সব ঠিক হয়ে গেছে। সহশিল্পীকে আপন করে নেওয়া তিশার একটি অনন্য গুণ। নাটকে কাজ করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে; যা ‘মায়াবতী’ ছবিতে বেশ কাজে লেগেছে। এ ছবিতে প্রথমবার আমরা জুটি হয়েছি। আশা করছি, দর্শক আমাদের গ্রহণ করবেন।”

advertisement