advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অভিবাসন কমিয়ে আনতে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন

অনলাইনে ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৫:৪২ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৫:৪২
ছবি: রয়টার্স
advertisement

অভিবাসন কমিয়ে আনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।  

বিবিসি জানায়, অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টর রুলের বিষয়টি আজ বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় নিশ্চিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইটে তিনি লিখেন, ‘সীমান্তে আশ্রয় প্রার্থনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এটি একটি বড় জয়।’

অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রুলে বলা হয়, কেউ যদি তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায় তাহলে তাকে আগে ওই দেশে আশ্রয় চাইতে হবে।

কট্টর অভিবাসন বিরোধী ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ঠেকাতে বদ্ধপরিকর।  এটিকে তারা আগামী ২০২০ সালের নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতায় আসার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। সুপ্রিম কোর্টের এ রুলকে অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের জয় হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এ রুল কার্যকর হলে মধ্য আমেরিকার হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া এবং এল সালভাদরের যেসব মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন চান, তাদেরকে আগে মেক্সিকোতে আশ্রয় চাইতে হবে। এসব দেশের মানুষ দারিদ্রের কারণে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকে। রুলটি কার্যকর হলে আমেরিকা অঞ্চলের বাইরের অভিবাসীদের ওপরও প্রভাব পড়বে।

নতুন রুল কার্যকর হলেও তৃতীয় কোনো দেশে আশ্রয় চেয়ে প্রত্যাখাত হওয়া কিংবা মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চাওয়ার সুযোগ থাকবে।

বিতর্কিত এ রুল চ্যালেঞ্জ করেছে সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠন।  এক পিটিশনে তারা বলেছে, ‘চলতি নিষেধাজ্ঞার কারণে, দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ এবং বন্দরে থাকা আশ্রয় প্রার্থীরা এমনকি শুধু মেক্সিকান ছাড়া আর কেউই আশ্রয় চাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।’

ট্রাম্প যখন অভিবাসন বিরোধী এ বিলের পরিকল্পনা করেন তখন থেকেই এটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। নতুন এ অভিবাসন নীতি নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক হলো- এতদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে কেউ যে কোনো উপায়ে পৌঁছালে তাকে আশ্রয় দেওয়ার বিধান ছিল, এখন এ নিয়ম বদলে যাবে।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারক রুশ ব্যাডার গিন্সবার্গ এবং সোনিয়া সটোমেয়রও এই রুলের বিপক্ষে মত দিয়েছেন। বিচারক সটোমেয়র লিখেন, ‘আবারো নির্বাহী শাখা এমন একটি রুল ইস্যু করলো যা নিপীড়নের শিকার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় আবেদন বিবেচনার দীর্ঘদিনের মার্কিন চর্চাকে উল্টে দেবে।’

অন্যদিকে, বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়েই অভিবাসন প্রত্যাশীরা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। তারা অনেকেই আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশগুলোর মাফিয়া চক্রের কবলে পড়েন।

মেক্সিকো এবং গুয়েতেমালা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশীদের স্রোত সামাল দিতে পারবে কিনা সে প্রশ্নটিও উঠেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ‘তৃতীয় দেশ’ হতে আগেই আপত্তি জানিয়েছে মেক্সিকো।

advertisement