advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুদের টাকা নিলেন ভগ্নিপতি, মাথা ফাটল শ্যালিকার

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৮:৩৬ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৮:৫৭
সুদের টাকা না দেওয়ায় ঋণ গ্রহণকারীর স্ত্রীর বড় বোনের মাথা ফাটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় সুদের টাকা না দেওয়ায় ঋণ গ্রহণকারীর স্ত্রীর বড় বোনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দাদন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নে বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সাবিনা বেগম (৩৫) নামের আহত ওই নারীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্শেদ আলীর (৪৫) নামের ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ী আর্শেদ আলীর ছোট মেয়ে শরিফার (২৫) কাছ থেকে মাসিক সুদে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন আহত সাবিনার ছোট বোন সুলতানা আক্তারের স্বামী মিন্টু মিয়া। টাকা নেওয়ার পর আত্মগোপন করেন তিনি।

এদিকে মিন্টু আত্মগোপনের পর সুদের টাকা দেওয়া সময় হলে সুলতানা অপরাগ হন। যে কারণে টাকা পরিশোধের জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন আর্শেদ আলী ও তার লোকজন।

গতকাল সকালে তারা সুলতানার কাছে গিয়ে টাকা চাইলে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় আর্শেদ আলীদের। এ সময় তারা লাঠিসোটা নিয়ে সুলতানাকে মারধর করেন। সাবিনা ছোট বোনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে লাঠির আঘাতে তার মাথা ফেটে যায়।

সুলতানা জানান, তার স্বামী মন্টু আট মাস আগে আর্শেদ আলীর ছোট মেয়ে শরিফার কাছ থেকে মাসিক সুদে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। পরে তিনি বাড়ি থেকে চলে যান। এর পর থেকে তিনি প্রতিনিয়ত আর্শেদ আলীর হুমকি-ধামকির মধ্যে থাকতেন। স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় তিনি কোনোভাবে টাকা ফেরত দিতে পারছেন না। এরই জের ধরে গতকাল তাকে মারধর করেন আর্শেদ আলী। এ সময় তার বড় বোন আহত হন।

দাদন ব্যবসায়ী আর্শেদ আলী জানান, টাকা নেওয়ার পর মাসিক সুদ দেওয়ার সময় এলেও মন্টুর স্ত্রী সুলতানা টালবাহানা শুরু করেন। কয়েকবার টাকা পরিশোধের কথা তাকে বলা হলেও তিনি দেননি। পরে গ্রাম্য সালিসে এ ঘটনার বিচার করতে চান তারা। সুলতানাকে সালিসে ডাকা হলেও তিনি আসেননি। এ কারণে গতকাল তারা সুলতানার বাড়ি যান টাকা ফেরত নিতে।

আর্শেদ আরও জানান, টাকা কবে দেবেন, জানতে চাইলে সুলতানা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে লাঠি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করেন সুলতানার চাচা কবির। এ সময় সাবিনা এগিয়ে এলে লাঠির আঘাতে তার মাথা ফেটে যায়।

বিষয়টি নিয়ে পুনরায় সুলতানার সঙ্গে কথা হলে আর্শেদ আলীর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে মারতে চেয়েছিল। এ সময় আমার বোন এগিয়ে এলে তার মাথা ফাটিয়ে দেন আর্শেদের লোকজন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মওলা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় সুলতানা আক্তার অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আহত সাবিনা বেগম বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

advertisement