advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নুসরাত হত্যায় ব্যবহৃত ১০টি ম্যাচের কাঠি জব্দ

অনলাইন ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:৩৩ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:৩৩
ফেনীর সোনাগাজীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি
advertisement

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ১০টি ম্যাচের কাঠির পোড়া অংশ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ ১০টি আলামত জব্দ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্মকর্তারা।

আজ বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে নুসরাত হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দ্বিতীয় দিন মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আলামত জব্দের বিষয়টি উপস্থাপন করলেও তার যুক্তি শেষ হয়নি। আগামী রোববার ফের যুক্তি-তর্কের দিন ধার্য্য করেছেন আদালত।

আদালতে পিপি হাফেজ আহম্মদ তার যুক্তি উপস্থাপন পর্বে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রমাণ হিসেবে ঘটনার পর মাদ্রাসার ছাদসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সোনাগাজী থানা-পুলিশ ও পিবিআই কর্মকর্তারা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেন। গত ৬ এপ্রিল সকালে পরীক্ষার আগে নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে অগ্নিদগ্ধ করার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, সোনাগাজী থানা-পুলিশের শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক (পিএসআই) ডিএইচএম জহির রায়হান ঘটনাস্থল মাদ্রাসার ছাদে গিয়ে একটি কালো রঙের কেরোসিন মিশ্রিত পলিথিন, একটি সবুজ রঙের সালোয়ারের পোড়া অংশ, বাটিকের ওড়নার পোড়া একটি অংশ, একটি পাথরের পুথির কাজ করা কালো রঙের আগুনে পোড়া বোরকা, এক জোড়া নেভি ব্লু রঙের জুতা, ১০টি ম্যাচের কাঠির পোড়া অংশ ও একটি নীল রঙের রাবারের ম্যাট উদ্ধার করেন।

গুরুত্বপূর্ণ ১০টি আলামতের তালিকায় কেরোসিন মিশ্রিত পলিথিন ও পোড়া ম্যাচের কাঠি ঘটনাস্থল থেকে পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন হাফেজ আহম্মদ। এছাড়া বাকি আলামতগুলো নুসরাত জাহানের পরনে ছিল বলেও আদালতে জানান এই কৌঁসুলি।

নুসরাতের গায়ে আগুন লাগানোর সময় আসামিদের যাতে চেনা না যায়, সে কারণে শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মো. জোবায়ের ও উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন ওরফে চম্পা ওরফে শম্পা বোরকা ব্যবহার করেন বলে জানান পিপি হাফেজ। আদালতে তিনি আরও বলেন, বোরকাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তা ছাড়া শাহাদাত হোসেন শামীম বাজারের যে দোকান থেকে কেরোসিন কেনেন, সেটাও শনাক্ত কারা ও জব্দ করা হয়েছে। শামীমের মোবাইলটিও জব্দ করা হয়।

এর আগে গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। নুসরাতের মা শিরিন আখতার ও বাবা মাওলানা একেএম মুসা ও নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হানসহ ৯২ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফি। এ মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২৯ মে ফেনীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলম।

advertisement