advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শীর্ষ এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও নেই ঢাবি

অনলাইন ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২১:৫০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:০৫
ছবি: কার্জন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
advertisement

বিশ্বজুড়ে শীর্ষ এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও স্থান পায়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। তালিকায় ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত প্রসিদ্ধ এ বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান এক হাজারের পরে। লন্ডনভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন’র প্রকাশিত র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নেমে এসেছে তলানিতে।

শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ৯২টি দেশের মোট ১৩০০ বিশ্ববিদ্যালয় অন্তুর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এ তালিকায় স্থান পেয়েছে।

২০১৬ সালের এ তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ৬০০ থেকে ৮০০-এর মধ্যে। অথচ ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজারেরও পরে।

শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার সংখ্যা ও সুনাম, সাইটেশন বা গবেষণার উদ্ধৃতি, এখাত থেকে আয় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতাসহ পাঁচটি মানদণ্ড বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে আগের বছরগুলোর তুলনায় গবেষণা, উদ্ধৃতি এবং আয়-এই তিনটি খাতে উন্নতি হলেও ২০১৬ সালের পর থেকে শিক্ষার পরিবেশের চিত্র ব্যাপকহারে পতন হয়েছে।

এ ছাড়াও র‌্যাংকিংয়ে বিদেশি ছাত্রের সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে শূন্য। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালটির ৪ হাজার ১০৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা একদমই অসন্তোষজনক।

এর আগে, চলতি বছরের মে মাসে সাময়িকীটি এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকায় উল্লেখিত এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পায়নি। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণার সুযোগ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়।

আর এবারের তালিকা লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক ভালো করেছে। র‌্যাংকিংয়ের তালিকায় ৩০০ থেকে শুরু করে ১০০০ মধ্যে ভারতের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

রাজনীতিসহ নানা ইস্যুতে অস্থিতিশীল পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থানও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক ভালো। পাকিস্তানের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এক হাজারের তালিকায়।

এমনকি একের পর এক মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে এ তালিকায়। অথচ স্থান পেল না সম্পূর্ণ স্থিতিশীল পরিবেশে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসতে থাকা অন্যতম শীর্ষ প্রবৃদ্ধি’র দেশ বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও।

এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে চীন এবং জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তালিকায় উঠে এসেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এদিকে, বরাবরের মতোই এই তালিকায় কর্তৃত্ব করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এ বছরের তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৭টিই যুক্তরাষ্ট্রের।

যার মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ইয়েল ইউনিভার্সিটি।

এদিকে চতুর্থবারের মতো এবছরও তালিকায় প্রথম স্থানটি দখলে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি। আর দশম স্থানে রয়েছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন।

জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যাপক হারে উন্নতি লাভ করছে। তালিকার প্রথম ২০০’র মধ্যে ২৩টি জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। গতবার স্থান পেয়ছিল তিনটি। টাইমস হায়ার এডুকেশনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তালিকায় এমন জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এমন উন্নতির মানে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় দেশটি উল্লেখযোগ্য হারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

advertisement