advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যেমন করেই হোক রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে হবে : রওশন এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:৩৫ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৩:৩৮
সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। ফাইল ছবি
advertisement

যেমন করেই হোক রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরাধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। আজ বৃহস্পতিবার সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

রওশন বলেন, ‘রোহিঙ্গা এখন আমাদের বিরাট সমস্যা হবে। অনেক দিন হয়ে গেল প্রায় ১২/১৪ লাখ রোহিঙ্গার দেখাশোনা করতে হচ্ছে। তারা এখন মাদক বিক্রি করছে। ইয়াবা বিক্রি করছে। পাসপোর্ট করে বিদেশ যাচ্ছে। তাদের জন্য আর কি করব? এই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আর রাখা যাবে না। তাহলে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে; এখন সময় হয়েছে তাদের চলে যাওয়ার। যেকোনো ভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফিরে যেতে হবে। যেমন করেই হোক তাদের ফেরত পাঠাতে হবে।’

অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান বিরোধী দল সংসদে কার্যকর ভূমিকা পালন করে রওশন এরশাদ বলেন, ‘গ্যাসের মূল্য বাড়ানোয় জনগণের অনেক সমস্যা হচ্ছে।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ মানুষ মধ্যবিত্ত্ব, তাদের গ্যাসের দাম বাড়ায় কষ্ট হয়। এছাড়া মানুষ নিজ দেশের জিনিসের বেশি দাম দিতে চায় না।’

সংসদে ডেঙ্গুর প্রভাবে বাংলদেশের মানুষ বিপর্যস্ত মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, ডেঙ্গু এমন ভাবে বেড়ে গিয়েছিল তা বলার বাইরে। যদি আমরা নিজেরা সচেতন হতাম তাহলে মানুষদের বাঁচাতে পারতাম। প্রতিদিন হাজার হাজার লোক হাসপাতাল ভর্তি হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে। আমাদের দেশটাকে পরিস্কার রাখতে হবে। ময়লা যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে আবারও ম্যালেরিয়া ও যক্ষা আবারও ফিরে আসবে। এ প্রসঙ্গে রওশন বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় ম্যালেরিয়া দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে যদি এখন থেকেই সচেতন না হই, তাহলে ম্যালেরিয়া ভীষণ আকার ধারণ করবে। এটা বিশ্বস্বাস্থ্য থেকে বলা হচ্ছে। যক্ষা থেকে বাঁচার জন্য আগে থেকেই প্রতিরোধী ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সচেতন হলে এসব রোগ থেকে জনগণকে বাঁচাতে সক্ষম হবো।’

কিশোর গ্যাং সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এরা সন্ত্রাসী হচ্ছে। গুণ্ডামি করছে। মাদক নিচ্ছে। মাদক এখানে সেখানে পৌঁছে দিচ্ছে। ওরা যদি গ্যাং এ রুপান্তরিত হয়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার। যারা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে তাদের আবার স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী আরও বলেন, ‘আরেকটি কাজ করতে হবে; সেটা হল শিশুশ্রম দূর করতে হবে। পরিবার ছাড়া এই গ্যাং কালচার দুর হবে না। এ ব্যাপারে প্রথমেই পিতামাতাদের সচেতন হতে হবে। ঝরে পড়া সন্তানদের দিকে নজর রাখলে তারা জঙ্গি হতে পারবে না। খেলাধুলার প্রতি যদি তাদের আনতে পারা যায় তাহলে তাদের এসব বন্ধ হবে।’

গুজব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আসল কথা না জেনেই মানুষ পিটিয়ে হত্যা করছে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে হবে।’

কূটনৈতিকদের অর্থনৈতিক কাজে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমরা এর মাধ্যমে আরও অনেক জিনিস রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করত পারি।’ এ ছাড়া পোষাক খাত আরও জোরদার করার পাশাপাশি বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কথা বলেন তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের যে করেই হোক স্কুলে পাঠাতে হবে।’ স্কুলে ঝড়ে পড়াদের আবার স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এছাড়া অভিভাবকেদের তিনি বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর দিকে নজর দিতে বলেন।

তিনি বলেন, ‘যদি অন্তত সবাইকে ম্যাট্রিক পর্যন্ত পাশ করানো যায় তাহলে কিছু একটা করে খেতে পারবে। শিশুশ্রম আমাদের আরও একটা বড় চ্যলেঞ্জ। এ শিশুশ্রম যে করেই হোক বন্ধ করতে হবে।’

সরকারি দলের মতো বিরোধী দলীয় চিফ হুইপকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার জন্যও স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন সংসদের বিরোধী দলীয় এই নেতা।

advertisement