advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভাদ্রের ২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে হাঁটুপানি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৯:৩২
বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে হাঁটুপানি, নগরবাসীর দুর্ভোগ। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

এক নম্বর রাইডারে (গণপরিবহন) করে বহদ্দারহাট থেকে সিরাজউদ্দৌল্লা রোড হয়ে কোতোয়ালি যাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আলাউদ্দীন। বাদুড়তলা পার হয়ে কাপাসগোলা যেতে না যেতেই হাঁটুপানিতে আটকে গেল গাড়িটি। অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পর চালু না হওয়ায় অন্য যাত্রীদের সঙ্গে তিনিও নেমে হাঁটুপানিতে হাঁটতে শুরু করেন।

গাড়ির চালক মোহাম্মদ ফয়সাল আমাদের সময়কে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গাড়ি বের করিনি। সাড়ে ১২টার দিকে রাস্তায় বের হয়ে বিপদে পড়ে গেলাম। যাত্রীদের হাঁটুপানিতে নামিয়ে দিতে হলো। অনেক যাত্রী মনে করছেন আমরা ইচ্ছা করেই গাড়ি চালাচ্ছি না। যাতে বাড়তি ভাড়া নিতে পারি।

এভাবে নগরীর অনেক এলাকায় ভাদ্র মাসের দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে গতকাল হাঁটু থেকে কোমরপানিতে রাস্তা ডুবে থাকায় ছোট যানবাহনগুলো অচল হতে দেখা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দুই ঘণ্টা ভারী বর্ষণ ও সাগরে জোয়ারের কারণে চট্টগ্রামের নিচু এলাকাগুলো হাঁটু থেকে কোমরপানিতে তলিয়ে যায়। নগরীর বহদ্দারহাট, বাদুড়তলা, চকবাজার, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, প্রবর্তক মোড়, আগ্রবাদ, হালিশহর, ডাবলমুরিং, খাতুনগঞ্জ, ডিসি রোড, বাকলিয়া, আসাদগঞ্জ, ঝাউতলা, পাথরঘাটা, চাক্তাইসহ শহরের নিম্নাঞ্চলে জমেছে হাঁটুপানি। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটা বিপর্যস্ত হয়েছে।

বাদুড়তলা এলাকার বাসিন্দা গোলাম নবী বলেন, দুই ঘণ্টা বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে বাসার নিচতলায় পানি ঢুকেছে। ছেলে-মেয়েরাও স্কুলে যেতে পারেনি। এ দুর্ভোগের শিকার আর কত বছর সহ্য করতে হবে বলতে পারেন? তিনি বলেন, টিভি চ্যানেলে এসব নিউজ প্রচার করে লাভ নেই। যতদিন পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি ও জনগণ সচেতন না হয়। তাই আগে জনপ্রতিনিধিদের বুঝতে হবে। আর জনগণকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়ের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

খাতুনগঞ্জের মাসলার পাইকারি ব্যবসায়ী সৈয়দ আহমদ নবী বলেন, জোয়ারের পানিতে এমনিতেই খাতুনগঞ্জের নি¤œাঞ্চলে পানি জমে যায়। এবার বৃষ্টিও শুরু হয়েছে। এই পানি কবে নামবে কেউ জানে না। অনেক আড়ত এখন পানির নিচে আছে। বিশেষ করে খাতুনগঞ্জের আড়তগুলো নিচু এলাকায় হওয়ায় আড়তদাররা প্রতি বর্ষা ও জোয়ারের সময় এই সমস্যায় পড়েন। অনেক আড়তদার ব্যবসা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছেন। যাদের নিজস্ব জায়গা নেই তাদের কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে (বিকাল ৩টা পর্যন্ত) চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় শুক্রবারও কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

 

advertisement