advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সরকার বিরোধী ঐক্যের আগে হিসাবি বিএনপি

নজরুল ইসলাম
১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৪:৫৯
বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল (বিএনপি) । ছবি : সংগৃহীত
advertisement

সরকার বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ার আগে নানা হিসাব কষছে বিএনপি। গণতন্ত্রমনা, ধর্মনিরপেক্ষ ও বাম রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রগতিশীল চিন্তার মানুষকেও এ প্রক্রিয়ায় রাখতে চাইছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। দলটির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বিএনপিসংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, বৃহত্তর ঐক্যে যুক্ত হতে দলগুলোকে কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা- এ দুই ইস্যুতে একমত হতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ দুই ইস্যুতে একমত হলে জামায়াতসহ অন্য বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা আলোচনা-পর্যালোচনা করে যুক্তিসঙ্গত মনে হলে মানা হবে।

দলের বাইরে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে খ্যাতিমান ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সমাজের গণমান্য ব্যক্তিদের সরকারবিরোধী এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায় বিএনপি। দলের নেতারা মনে করেন, সরকারের বিরুদ্ধে সব গণতান্ত্রিক শক্তি ও ব্যক্তি এক প্ল্যাটফরমে এলে দেশি-বিদেশি সব শক্তিকে পাশে পাওয়া যাবে। জনগণের মধ্যে ভিন্ন একটি ধারণা তৈরি হবে, নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। প্রশাসন একতরফাভাবে বিএনপির ওপর চড়াও হতে পারবে না।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকার নেই। সব গণতান্ত্রিক শক্তিই ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে। তারা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এ অবস্থায় একজন আরেকজনের ভুলত্রুটি না খুঁজে অভিন্ন দাবিতে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে এক প্ল্যাটফরমে আসতে হবে।

সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন, যে রাজনীতির পতাকা খালেদা জিয়া তুলে নিয়ে দীর্ঘকাল বেড়িয়েছেন। এই রাজনীতির জন্য তিনি কারাগারে রয়েছেন। আমরা আমাদের এই রাজনীতিকে যদি সঠিক পথে নিতে পারি, যদি আরও বৃহত্তর ঐক্য সৃষ্টি করতে পারি, আজকে শুধু জাতীয় পার্টি নয়, অন্য সব দেশপ্রেমিক দলকে যদি এক করতে পারি, তা হলে অবশ্যই আমাদের বিজয় আসবে।

বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন, দেশে দুই ধরনের রাজনীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটি হচ্ছে- ক্ষমতার রাজনীতি, অন্যটি ভোটের রাজনীতি। ক্ষমতার রাজনীতিতে মূল বাধা জামায়াতসহ ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপির জনপ্রিয়তা থাকলেও জামায়াতসহ আরও কয়েকটি কারণে দলটি আটকে আছে।

বিএনপি নেতাদের ভাষ্য- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হরণ করে ‘স্বৈরাচার’ স্টাইলে দেশ শাসন করছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন, সব কিছুই তারা করছে। কিন্তু বিএনপি জোটে স্বাধীনতাবিরোধী ও ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামী থাকায় গণতন্ত্রমনা শক্তিগুলো বিএনপির পক্ষে আসছে না। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশে-বিদেশে নানা মহলে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে তাদের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে লাভবান হচ্ছে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, ক্ষমতাসীনরা মুখে যা-ই বলুক, বিএনপি-জামায়াত জোট ভেঙে যাক তা চাইবে না। কারণ বিএনপি-জামায়াত ব্র্যান্ডিং ক্ষমতাসীনদেরই বড় সুবিধা এনে দেয়। পশ্চিমা বিশ্ব জামায়াত বা ধর্মভিত্তিক দলগুলোর রাজনীতি পছন্দ করে না। এ অবস্থায় বিএনপি গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে পথ চলার চিন্তা করছে। সে ক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট কোন পর্যায় পর্যন্ত থাকবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে দলটি। বিএনপি নেতারা মনে করেন, ভোটের রাজনীতিতে জামায়াত বড় ফ্যাক্টর। সে ক্ষেত্রে সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াতকে আড়াল করার চিন্তা করছে বিএনপি।

দলটির একাধিক নেতা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘তড়িঘড়ি করে অস্পষ্ট বক্তব্যে’র ওপর ২০-দলীয় জোটের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন সঠিক হয়নি। ২০-দলীয় জোটের কয়েকটি শরিক দল নিয়ে বিএনপি অস্বস্তিতে আছে। সব মিলিয়ে আগের সেই ভুল এবার বিএনপি করতে চাইছে না। বিশেষ করে গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জোট অটুট রাখার আগে বিএনপি তার স্পষ্ট বক্তব্য জানতে চাইবে।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, ঐক্যফ্রন্ট আবার সক্রিয় করা হোক তা দু’একজন ছাড়া দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্য নেতারা চান না। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে বিএনপি নেতাদের আপত্তি রয়েছে। কারণ ড. কামাল বিএনপির অনেক বিষয়ই মানতে চান না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। গণফোরামের নেতারা সভা-সমাবেশে বারবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উচ্চারণ করেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান নিয়ে তাদের ইতিবাচক কোনো বক্তব্য থাকে না, যা উপস্থিত নেতাকর্মীরা কোনোভাবেই মানতে পারে না।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনীতি করতে হলে বিএনপিকে ছাড় দিয়ে হলেও গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। এর বিকল্প নেই।

advertisement