advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দেশে বিদেশিদের ‘পাপেট’ সরকার কাজ করছে : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৩:২৩ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:১৫
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (পুরোনো ছবি)
advertisement

দেশে বর্তমানে বিদেশিদের ‘পাপেট’ সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে ‘বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস ও আমরা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভা হয়।

ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে যে গণতন্ত্রহীনতা- এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সামগ্রিকভাবে গোটা বিশ্বে রাজনৈতিক পরিবর্তন যেগুলো ঘটছে তার মধ্যে বাংলাদেশে পড়ে গেছে। আজকের সরকার ওই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠির সঙ্গে যোগসাজস করে বাংলাদেশের জনগণের অধিকারকে হরণ করে দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তারা সম্পূর্ণভাবে “পাপেট” সরকারে পরিণত হয়েছে’

তিনি বলেন, ‘যারা আজকে বিশ্ব রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, যারা আজকে বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে তারা আজকে তাদের একটা ক্রীড়ানক হয়ে এই সরকার ক্ষমতায় আছে। যে কারণে আমরা দেখি যখন রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টি হয়, সেই সমস্যার সমাধান বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক কৌশল করে করতে পারে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে বড় বাস্তবতা হচ্ছে- এই স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারছি না। জোনায়েদ সাকি সাহেব ভালো কথা বলেছেন, মাঠে যে আন্দোলন, মাঠে যে কাজ তার মধ্য দিয়ে ঐক্য তৈরি হবে। আমি তার সাথে একমত। মাঠের মধ্য দিয়ে আমরা যখন রাজপথে আসতে পারব, রাজপথে আমাদের আন্দোলন শুরু করতে পারব সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ঐক্য তৈরি হবে। এটাই সত্য।’

ঐক্যফ্রন্ট সক্রিয় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টকে সক্রিয় দেখতে পারছেন না। সক্রিয় কোনো দিক দিয়ে না? আমরা আমাদের কাজগুলো করছি, আমরা দল ও সংগঠনকে সংগঠিত করে আমরা যারা স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ সরকারের বিরুদ্ধে নেমে আসতে পারি তার জন্য কাজ করছি। আমি জানি, অন্যান্য দলগুলো প্রত্যেকে তাদের নিজেদের কাজগুলো করছেন এবং সংগঠন শক্তিশাল করছেন। সেই কাজের মধ্য দিয়ে অবশ্যই জনগণের চাহিদার কারণে অতি দ্রুত ঐক্য তৈরি হবে। ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই– আজকে দেশে সমস্ত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্যে যদি একত্রিত না হতে পারি তাহলে সেই লড়াই সফল হওয়া যাবে না। সেই কারণে আমরা নির্বাচনের পূর্বে ঐক্যফ্রন্ট তৈরি করেছিলাম, জোট করেছিলাম, সেই ঐক্য এখনো অটুট আছে। সেখানে কোনো ভাঙ্গন ধরে নাই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে এই সরকার সম্পূর্ণভাবে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া একটি সরকার এবং আওয়ামী লীগ ইতিপূর্বেও একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল, তারা গণতন্ত্রের বিশ্বাস করে না, কোনোদিন করেওনি। ওরা একটি ফ্যাসিস্ট শক্তি।’

জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, ‘স্বাধীনতার তিন বছরের মধ্যে গণতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল করা হয়েছিল, কয়েকটি মিনিটের মধ্যে পার্লামেন্টে বিল পাস করতে হয়েছে এজন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগেনি। বাকশাল বাংলাদেশে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের সহযোগিতা করেছে। এখন আবার অঘোষিত বাকশাল অলমোস্ট হয়ে গেছে। এসব করে কোনো লাভ হবে না। এই স্বৈরাচার দিয়ে গণমানুষের উন্নয়ন হবে না। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে এই স্বৈরাচার হটানো যাবে না। পুরো জাতির গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক, বামপন্থি শক্তি সকলে মিলে জাতীয় বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে এদের বিদায় করতে হবেম সকলকে এক হয়ে রাজপথে নামতে হবে।’

ছাত্রলীগের দুই নেতার সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে ডাকসুর সাবেক ভিপি মান্না বলেন, ‘গতকাল রোববার একটা টকসোতে গেছি, গত কয়েকদিন ধরে এই যে, ছাত্র লীগের বিরাট অর্জন-এটা নিয়ে কথা-বার্তা হচ্ছে এবং উনারা আমাদেরকে দিয়ে বলাবার চেষ্টা করেন- প্রধানমন্ত্রী যে এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়েছেন এটাকে অন্ততঃ প্রশংসা করেন, ছাত্র লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকে দায়িত্ব থেকে বের করে দিয়েছেন-এটাকে ভালো বলবেন না?’

তিনি আরও বলেন, ‘আরে এটা যদি ভালোই হতো, এটা যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার্তাই হতো তাহলে হলমার্কের কেলেঙ্কাকারীর পরে আপনার উপদেষ্টার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি কেন? এটা যদি সত্যিই হতো আপনি জনগণকে বার্তা দিতে চান যে আপনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই শুরু করতে চান তাহলে বাংলাদেশের সব কয়টা ব্যাংক যে একের পর এক খালি হয়ে যাচ্ছে- এই ব্যাংকের পতনের জন্যে যারা যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কিছু করেছেন আজ পর্যন্ত? কিছুই করেননি।’

প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদুল্লাহ কায়সারের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জনসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণফোরামের জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের এস এম আকরাম, মোমিনুল ইসলাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল প্রমুখ।

advertisement