advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রক্তাক্ত রিফাতকে হাসপাতালে নেন মিন্নি একাই

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা ও বরগুনা প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৪
advertisement

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকা- ভিন্ন খাতে নিতে তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক ও কুরুচিপূর্ণ নানা পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এডিট করা ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে মিন্নির বলে চালানো হয়। এ ছাড়া রিফাত শরীফকে আক্রমণের আগে-পরের ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে দিয়ে মিন্নিকে হত্যাকা-ে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি প্রচার করা হয় স্বামী রক্তাক্ত হওয়ার পরও তাকে হাসপাতালে না নিয়ে

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বাসায় চলে যান। কিন্তু বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার একটি ফুটেজে দেখা গেছে, আহত রিফাত শরীফকে তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি একাই

রক্তাক্ত অবস্থায় রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ২৬ জুন সকাল ১০টা ২১ মিনিটে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি একাই একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় রক্তাক্ত ও অচেতন রিফাতকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে যান। সেখানে এক যুবক রিফাত শরীফকে বহন করা রিকশার দিকে দৌড়ে আসেন। তিনি রিফাতের অবস্থা দেখে হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে একটি স্ট্রেচার নিয়ে রিকশার পাশে দাঁড়ান। পরে রিকশা থেকে নামিয়ে অচেতন রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। আয়শা হাসপাতালের সামনে উপস্থিত একজনের ফোন নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলেন। এর পর তিনি হাসপাতালের ভেতরে যান। এর কিছু সময় পর আয়শার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ও চাচা আবু সালেহ হাসপাতালে আসেন।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হাসপাতালের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। এ সময় সেখানে রিফাত শরীফের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম ওরফে জন ও তার কয়েকজন বন্ধু হাসপাতালের সামনে আসেন। মঞ্জুরুল বেশ কিছু সময় ফোনে কথা বলেন। ১০টা ৪৪ মিনিটে অক্সিজেন ও দুটি স্যালাইন লাগানো অবস্থায় রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে ওই অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। ১০টা ৪৯ মিনিটে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে অ৬্যাম্বুলেন্সটি।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নতুন ভিডি ফুটেজের বিষয়ে মিন্নির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর এ ব্যাপারে আমাদের সময়কে বলেন, আমার মেয়ে মিন্নি যে রিফাত শরীফকে বাঁচানোর জোর চেষ্টা করেছেন তা কলেজের সামনের ভিডিও এবং বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণের ভিডিওতে সুস্পষ্টভাবে দেখা গেছে। ওই ভিডিও আমি হাতে পেয়েছি। অথচ একটি মহল প্রচার করে আমার মেয়ে তার রক্তাক্ত স্বামী রিফাত শরীফকে হাসপাতালে না নিয়ে বাসায় চলে যান। পুলিশ সবকিছু জেনেও ওই ভিডিওর কথা গোপন করে। পুলিশ তো বলেছিল মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফকে হাসপাতালে না নিয়ে বাসায় চলে গেছে। পুলিশই রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। পুলিশ কেন এ ধরনের অপপ্রচার করে তা তদন্ত হওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, আমার মেয়ে এ হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত নয়। ষড়যন্ত্র করে তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।’

জানা গেছে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ও বরগুনা জেলা পুলিশের পৃথক দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। তবে এ ভিডিও কোন ক্যামেরায় ধারণ করা, তা জানা যায়নি।

গত ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, ‘ঘটনার দিন আমার স্বামীকে কোপানোর সময় প্রাণপণ চেষ্টা করেছি তাকে বাঁচাতে। এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করি। এর পর রক্তাক্ত অবস্থায় আমিই রিকশায় করে রিফাত শরীফকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। যখন চিকিৎসকরা তাকে বরিশালে পাঠাতে বলেন, তা শুনে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরলে আমি জানতে পারি তাকে (রিফাত শরীফ) বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

রিফাত শরীফকে ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে কোপানোর ঘটনায় ধারণ করা প্রথম ভিডিওটিতে দেখা যায়, রিফাতকে সন্ত্রাসীরা যখন কোপাচ্ছিল, তখন তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন স্বামীকে বাঁচানোর। এর পর ওই ঘটনায় দ্বিতীয় যে ভিডিওটি প্রকাশ হয়, সেখানে রিফাতকে কলেজ গেট থেকে ধরে পূর্ব দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় আয়শা সন্ত্রাসীদের পেছনে কিছুটা ধীরলয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এ ঘটনায় একটি মহল সন্দেহ প্রকাশ করে। এর জের ধরেই আয়শার শ্বশুর ঘটনার ১৮ দিন পর গত ১৩ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে রিফাত হত্যায় আয়শা জড়িত বলে অভিযোগ তোলেন এবং ওই ভিডিওর উদ্ধৃতি দেন। ১৬ জুলাই আয়শাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। আয়শা উচ্চ আদালত থেকে ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে বাবার বাড়িতে আছেন।

বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. হুমায়ুন কবীর গতকাল সোমবার আমাদের সময়কে বলেন, এটি পুরনো ঘটনা। আহত রিফাত ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে গিয়ে রিকশায় ওঠে, এরপর মিন্নিও ওই রিকশায় উঠে রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এতে মিন্নি নির্দোষ এটা প্রমাণ হয় না। এ ঘটনা চার্জশিটে উল্লেখ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নে, তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ যা কিছু দরকার তা চার্জশিটে উল্লেখ করেছি। এ ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই।

এ ব্যাপারে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, বিষয়টি প্রথম থেকেই মিন্নি আমার কাছে বলেছেন, এমনকি কোর্টেও বলেছেন। নতুন ভিডিওটি এখনো দেখিনি। চার্জশিটের কপিও দেখিনি। তবে তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে যদি বিষয়টি উল্লেখ না করেন তবে তা হবে বড় ভুল।

advertisement
Evall
advertisement