advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডাকসু ছাড়বেন না রাব্বানী

বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৪
advertisement

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ হারানোর পর এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সিনেটের সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়াতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। গতকাল সোমবার বিকালে ঢাবি উপাচার্য, ডাকসুর সভাপতি ও সিনেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের কাছে শোভনের পক্ষে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব ও ডাকসুর সদস্য রফিকুল ইসলাম। শোভনের পদত্যাগপত্র

পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপাচার্য বলেন, সংশ্লিষ্ট সভায় বিধিমোতাবেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পদত্যাগপত্রে শোভন উল্লেখ করেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বর্তমানে আমার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ওই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। এ জন্য আমি পদত্যাগ করতে আগ্রহী। এর পর উপাচার্যের কাছে সিনেট সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চান তিনি।

পদত্যাগের বিষয়ে শোভনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই এ পদত্যাগ। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য যেভাবে কষ্ট করছেন সেখানে যেন কোনোভাবেই কালি না লাগে, তাই সবাইকে যার যার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে আমার জায়গা থেকে আমি কাজ করে যাব। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠনকে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চলতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকতে হবে। তা হলেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল সিনেটে সাধারণত পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি থাকেন। বার্ষিক সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ জুন। এতে পাঁচ ছাত্র প্রতিনিধির মধ্যে ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। বাকি তিনজন হলেনÑ ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, জিএস গোলাম রাব্বানী ও সদস্য তিলোত্তমা শিকদার।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস পদ ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। আমাদের সময়ের সঙ্গে গতকাল আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করিনি। তা হলে কেন ডাকসুর জিএস পদ থেকে পদত্যাগ করব? সবাই সবার ভুল বুঝবেন একদিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার ক্যাম্পাস। এখানে শত শত কোটি টাকার কাজ হলো, সেখানে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না আমাদের। কেউ আমাদের নামে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেনি। এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা চাঁদাবাজি করতে গিয়েছি, এটি কী সত্য? আমি চাঁদা চাইলে ভিসি ম্যামের (জাবি উপাচার্য) কাছে কেন চাইব? চাঁদা দাবি করলে তো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবি করব। কই কোনো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তো এ অভিযোগ আনেনি।’

যদিও গতকালই অতীতের ভুলত্রুটির জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দেন রাব্বানী। তিনি লেখেনÑ ‘মমতাময়ী নেত্রী, আপনার মনে কষ্ট দিয়েছি, আমি অনুতপ্ত, ক্ষমাপ্রার্থী। প্রিয় অগ্রজ ও অনুজ, আপনাদের প্রত্যাশা-প্রাপ্তির পুরো মেলবন্ধন ঘটাতে পারিনি বলে আপনাদের কাছেও ক্ষমাপ্রার্থী।

প্রাণপ্রিয় আপা, আপনি আদর্শিক পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবের সুযোগ্য তনয়া, ১৮ কোটি মানুষের আশার বাতিঘর। আপনার দিগন্ত বিস্তৃত স্নেহের আঁচল, এক কোণে যেন ঠাঁই পাই। আপনার ক্ষমা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বাকিটা জীবন চলতে চাই।’

advertisement