advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অরিত্রীর পথেই হেঁটেছিল আকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৪
advertisement

পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে বহিষ্কার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে অরিত্রীর বাবা-মাকে ডেকে নিয়ে তার সামনেই অপমান করা হয়। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি ওই কিশোরী। গত বছরের ডিসেম্বরে এ ঘটনার পরেই আত্মহত্যা করে অরিত্রী, যা সে সময় দেশজুড়ে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে প্রায় একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছিল রাজধানীর মিরপুরে বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে। পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করায় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার আলম আকাশের বাবা-মাকে ফোন করে ‘অপমান’ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনা মানতে পারেনি আকাশ। রাগে ক্ষোভে সে কলেজের দ্বিতীয় তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও মারাত্মক আহতাবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়েছে আগারগাঁওয়ের

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে।

তবে আকাশের বাবা-মাকে অপমানের কথা অস্বীকার করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, আকাশ কলেজের দোতলার সিঁড়ি থেকে একতলায় পড়ে যায়। বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের রেক্টর সজল চন্দ্র সরকার বলেন, আকাশ নামে ওই শিক্ষার্থী আগামী বছর এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। সম্প্রতি পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় আমরা ফোন করে তার বাবা-মাকে কলেজে আসতে বলি। এ কথা জেনেই ওই ছাত্র শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। এর পরই ওই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর পরই কলেজে গুজব ছড়িয়ে পরে আকাশ মারা গেছে। এতে শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে শুরু করে বিক্ষোভ। একপর্যায়ে তারা কলেজের দরজা-জানালার কাচ ও ভেতরে থাকা গাড়ি ভাঙচুর করে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কলেজ তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ক্যাম্পাসে। সাইদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সম্প্রতি আমাদের কলেজের ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আকাশ রেজাল্ট একটু খারাপ করায় কলেজের শিক্ষকরা তাকে বকা দেয়। পাশাপাশি গতকাল সকালে আকাশের মা-বাবাকে কলেজে আসতে খবর দেয়। বিষয়টি মানতে পারেনি সে। সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আমরা এর বিচার চাই। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, নিজেদের দোষ ঢাকতে কলেজ কর্তৃপক্ষ সব সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে ফেলেছে। তবে এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

কাফরুল থানার ওসি সেলিমুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। ছাত্রের অভিভাবক অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পুুলিশের মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কামাল হোসেন বলেন, ছেলেটির চিকিৎসা হচ্ছে। আমরা তার খোঁজখবর নিচ্ছি। কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত করে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে আকাশের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে চিকিৎসক মনসুর আহমেদ বলেন, ছেলেটি সুস্থ আছে। কথাবার্তা বলছে। তার সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে অবস্থা বোঝা যাবে।

advertisement