advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অশ্রুসিক্ত নয়নে মনোনয়ন প্রত্যাহার আ.লীগ প্রার্থীর

নজরুল মৃধা রংপুর
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৪
advertisement

অবশেষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাই সত্যি হল। হাইকমান্ডের নির্দেশে এরশাদের শূন্য আসনে উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন প্রার্থী রেজাউল করিম রাজু। সোমবার রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহতাব উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের চিঠি জমা দেন নৌকা মার্কার এই প্রার্থী। ফলে এ আসনে জয়ী হতে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন। তবে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী এরশাদপুত্র সাদ এরশাদ এবং এরশাদের ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ শাহরিয়ারের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

এদিকে গতকাল নৌকার প্রার্থী রেজাউল ইসলাম রাজুর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের খবরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মী ও বিপুল পরিমাণ সমর্থক। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা নগরীর কাচারিবাজার জিরো পয়েন্টে প্রধান সড়ক অবরোধ করে শুয়ে পড়েন। এ সময় যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটে। বিকাল ৩টার দিকে রাজু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে এলে নৌকার সর্মথকরা তাকে বাধা দেন। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর সবাইকে বুঝিয়ে শান্ত করে নির্বাচন অফিসে গিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন তিনি। এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও প্রার্থী রাজুর চোখ পানিতে ছলছল করছিল।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেজাউল ইসলাম রাজু সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেছেনÑ রাজনৈতিক কারণে তোমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলাম। রাজনীতির বৃহত্তর স্বার্থে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বললাম। দলের প্রধানের নির্দেশেই আমি তা প্রত্যাহার করলাম। সদর আসনে নৌকা প্রতীক না থাকলেও উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাছে।’ তিনি বলেন, ‘অপশক্তি বাংলাদেশে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা রাজনীতিকদের হাতে রাজনীতি তুলে

ধরার চেষ্টা করছেন।’

রংপুর-৩ আসনে নৌকা প্রাতীকে প্রার্থী দেওয়ার পর আসনটি দখলে নিতে মরিয়া হয়েছিল স্থানীয়

আওয়ামী লীগ। জাপার অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে তারা বিজয় ছিনিয়ে আনতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা হতাশ। তবে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল বলেন, ‘মনোনয়নপ্রত্যাশীরা গত ৭ সেপ্টেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গিয়ে দেখা করেছিলাম। সেদিন রংপুর উপনির্বাচনের মনোনয়ন বাছাই বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রার্থী হিসেবে রাজুকে চূড়ান্ত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেনÑ দেশের বৃহৎ দল হিসেবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে প্রার্থী দিতে হয়, তাই দিলাম। আবার যেহেতু জাতীয় পার্টি আমাদের মহাজোটের অংশ, তাই প্রয়োজনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। এখন আমরা জোটগত নির্বাচন করব। এতে কোনো অভিমান রাখা যাবে না। তাই দলের সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

১৯৭৩ সালে এ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সিদ্দিক হোসেন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে জয় পান বিএনপির রেজাউল হক সরকার রানা। এর পর থেকেই আসনটি জাতীয় পার্টির। ১৯৮৬ সালে শফিকুল গণি স্বপন, ১৯৮৮ সালে মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ২০০১ সালে গোলাম মোহাম্মদ কাদের, ২০০৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ২০০৯-এ (উপনির্বাচন) রওশন এরশাদ, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ আসনে নির্বাচিত হন। প্রায় ৩০ বছর থেকে আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে।

রংপুর সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২১ হাজার ৩১০ এবং ২ লাখ ২০ হাজার ৭৬২ জন নারী ভোটার। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ইভিএমে ভোট হয়। তাতে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের রিটা রহমান পেয়েছিলেন ৫৩ হাজার ভোট। গত ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৫ অক্টোবর ভোটগ্রহণ। আজ মঙ্গলবার দেওয়া হবে প্রতীক বরাদ্দ।

advertisement