advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাব্বানী-সাদ্দামের ফোনালাপ ফাঁসকে ষড়যন্ত্র বলল জাবি কর্তৃপক্ষ

জাবি প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৩০
advertisement

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে নতুন ফাঁস হওয়া ফোনালাপকে ষড়যন্ত্র বলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ অফিস থেকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় এ দাবি করা হয়। গত রবিবার ফাঁস হওয়া ওই ফোনালাপে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদ্য পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং জাবি ছাত্রলীগের নেতা সাদ্দাম হোসাইন ও হামজা রহমান অন্তরকে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
এদিকে গতকালও জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেনÑ কে কত টাকা পাবে তা উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তার বাসভবনে বৈঠক করে ঠিক করে দিয়েছেন। আরেক নেতা সহসভাপতি নিয়ামুল হক তাজও একই দাবি করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ অফিসের ই-মেইল বার্তায় বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে ফোনালাপ প্রচারিত হয়েছে তা অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে, উপাচার্যের সঙ্গে টাকা ভাগের কোনো আলাপ হয়নি। তিনি কাউকেই অর্থ প্রদান করেননি। উপাচার্যকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গোলাম রাব্বানী এ ফোনালাপের গল্প তৈরি করেছেন।
এদিকে গতকাল জাবি ছাত্রলীগের নেতা সাদ্দাম বলেন, পাল্টাপাল্টি অভিযোগের চেয়ে বরং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি চায় প্রশাসনের সঙ্গে সে সময় ফোনে যে কথা

হয়েছে সেটা বের করবে, আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। সেটা বের হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে দুর্নীতি ছিল, নাকি ষড়যন্ত্র ছিল। আগস্টের ৯ তারিখের আগে-পরে আমার এবং আমার বন্ধু তাজের সঙ্গে ভিসির ছেলের ফোনের আলাপ বের করলে আর কোনো প্রশ্ন বা কোনো কিছু বলার অবকাশ থাকবে না। সাদ্দাম আরও বলেন, ভিসি ম্যাম ও তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি (ভিসি) আমাদের এ আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন। আমরা তো কোনো চাঁদাবাজি করিনি। বরং যখন শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে, আমি ও তাজ গিয়ে সবাইকে শিডিউল কিনতে ও জমা দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে বলেছিলাম।
সহসভাপতি নিয়ামুল হক তাজ বলেন, আমরা (তাজ-সাদ্দাম গ্রুপ) পেয়েছি ২৫ লাখ। সভাপতি কত পেয়েছে, সেক্রেটারি কত পেয়েছে সেটা আমরা জানি না। বেশিও পেতে পারে। আমাদের বলা হয়েছে, (৯ আগস্টের মিটিংয়ে) তোমরা ২৫ নিবা, ওর ৫০ (সভাপতি জুয়েল রানার), আর ও ২৫ (সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল) নেবে। তবে শাখা সভাপতি জুয়েল রানা ৯ আগস্টের মিটিংয়ের কথা স্বীকার করলেও মিটিংয়ে টাকা বণ্টন বা টাকা পাওয়ার বিষয়টি শুরু থেকে অস্বীকার করে যাচ্ছেন। এটি একটি মিথ্যা গল্প বলে দাবি তার।
গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে সাদ্দামের ফোনালাপ ফাঁসের পর ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আন্দোলনকারীরা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের দাবির ব্যাপারে আরও অনড় অবস্থানে যাবেন বলে জানিয়েছেন। আগামীকাল বুধবার অভিযোগের তদন্তের দাবি বিষয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া জাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি হামজা রহমান অন্তরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। এ কথোপকথনকে হুমকি আখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন অন্তর। এতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান তার কাছে গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে কথা বলার কারণ জানতে চান। কথোপকথনের একপর্যায়ে প্রক্টর তাকে হুমকি দেন বলে দাবি করা হয় ওই চিঠিতে।
এ বিষয়ে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, অন্তরের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। তার সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ডটি শুনলে যে কেউ বুঝতে পারবে তাকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।

 

advertisement