advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দামের পাগলা ঘোড়া ছুটছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে

আমাদের সময় ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৪
advertisement

একে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে লাগাতার দোষারোপ করে সে দেশে সামরিক অভিযান বাড়ানোর হুমকি, তার ওপর গত শনিবার সৌদি আরবে আরামকোর দুটি তেলক্ষেত্রে হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলা। সব মিলিয়ে এর তীব্র প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের উত্তোলন ও দামে। গতকাল সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম একলাফে বেড়ে গেছে ১০ শতাংশেরও বেশি। নিউইয়র্কভিত্তিক কোম্পানি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ১০.৬৮ শতাংশ বাড়ানোয় গতকাল থেকে এর দাম ব্যারেলপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৬০.৭১ ডলারে। ওদিকে ব্রেন্ট সংস্থায় তেলের দাম ১১.৭৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭.৩১ ডলারে। ১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এই প্রথম গতকাল জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ল, আসছে দিনগুলোয় যা আরও বাড়তে

পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামলার পর সৌদি আরব বিশ্ববাজারে শতকরা ৫ ভাগ তেল সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে এই সংকট। ফলে অপরিশোধিত বেন্ট তেলের দাম বেড়েছে শতকরা ১৯.৫ ভাগ। ১৯৯১ সালের ১৪ জানুয়ারির পর একদিনে এটাই জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। তেলের বাজার বিশ্লেষক জেফ্রি হ্যালি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে, ফলে সপ্তাহের শুরুতেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিতে বড়সড় ধাক্কা লাগলেও চলতি সপ্তাহজুড়ে তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

এদিকে এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরামকোর দুই তেলক্ষেত্রে হামলার কারণে প্রতিদিনের তেল উৎপাদন কমেছে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল, যা সৌদির তেল উৎপাদনের অর্ধেক এবং বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ। কত দিনের মধ্যে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র তার মজুদ তেলের ভা-ার খুলে দেওয়ার কথা ভাবছেÑ এমনটাই টুইট করে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সৌদি তেলক্ষেত্রে হামলার পর দামে প্রভাব পড়তে পারে। আবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, শক্তি উৎপাদনকারী বাজারগুলোয় যাতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র তার অংশীদার এবং সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করবে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আরামকো বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি। বিশ্বের তেলের চাহিদার মোট ১০ ভাগ উৎপাদন করে তারা। গত শনিবার সৌদির খুরাইস ও আবকাইকে কোম্পানিটির দুটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। এ ঘটনার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স, এনডিটিভি ও জি নিউজের।

advertisement