advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তিনদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা

আবু আলী
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৮:৪৯
advertisement

দেশে বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজের উৎপাদন হয়েছে। আমদানিও যথেষ্ট। অথচ ভারতে দাম বাড়ানোর খবরেই অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের বাজার। তিন দিনের ব্যবধানে প্রতিকেজির দাম বেড়েছে ২৫-৩০ টাকা পর্যন্ত। গতকাল সোমবার খুচরাবাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ ৭০-৭৫ টাকা, দেশি কিং ৬০-৬৫ এবং ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। অথচ গত বৃহস্পতিবারও বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকা এবং ৪৫-৫০ টাকায়। মূলত নিজেদের বাজার সামাল দিতে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ন্যূনতম মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার বেঁধে দেওয়ার পরই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জানতে চাইলে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী সাব্বির মাহমুদ বলেন, ‘এ বছর দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম। এর মধ্যে ভারত ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করে দিল। এতে দেশের বাজারে ইতোমধ্যে প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার শ্যামবাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৪৩-৪৫ টাকা ছিল, যা গতকাল ৭০ টাকায় গিয়ে ওঠে। একইভাবে ৪২-৪৩ টাকা কেজির ভারতীয় পেঁয়াজ উঠেছে ৬০ টাকায়।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এ বছর দেশে ২৬ লাখ টনপেঁয়াজের উৎপাদন হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি হয় ৭ লাখ টন। অথচ আমাদের চাহিদা ২৬ লাখ টন।

এর পরও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি আমলে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে তিন উদ্যোগের কথা জানান। সে অনুযায়ী গতকাল থেকেই ন্যায্যমূল্যে ট্রাক সেলের মাধ্যমে টিসিবি খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু বাজারে গিয়ে তা দেখা মেলেনি। তবে টিসিবি সূত্র জানিয়েছে, পেঁয়াজ তাদের নিয়মিত পণ্য নয়। তা ছাড়া পচনশীল হওয়ায় এটি মজুদও করা হয়নি। তাই প্রস্তুতি না থাকায় খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করতে পারেনি সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির আমাদের সময়কে বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করে খোলাবাজারে বিক্রি করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে। এর পরই টিসিবি প্রস্তুতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব, মতিঝিলের বক চত্বর এবং খমারবাড়ীতে স্বল্প পরিসরে হলেও ট্রাক সেল শুরু হবে। সেখান থেকে প্রতিজন দুই কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন।’ তবে তারা কত টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করবে, গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেটি ঠিক হয়নি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারতের বিকল্প দেশ থেকে আমদানির চিন্তা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে মিয়ানমার, মিসর, তুরস্কসহ বিভিন্ন বাজার যাচাই করে নিত্যপণ্যটি আমদানি করা হতে পারে। তাই পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি মার্জিন ও সুদের হার হ্রাসের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্দরে আমদানিকৃত পেঁয়াজের খালাস প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন এবং নির্বিঘেœ পরিবহন নিশ্চিতের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি পেঁয়াজের বাজার দরের ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে অংশীজনদের নিয়ে আজ মঙ্গলবার ফের বৈঠক করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, আমদানিকারকসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

বাজারে নিত্যপণ্যের দর সহনীয় রাখতে টিসিবিকে আরও ব্যবহার করতে চায় সরকার। এ জন্য সংস্থাটির কেনাকাটার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। ফলে আপৎকালীন স্থানীয় কিংবা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিত্যপণ্য কিনতে আর পূর্বানুমোদন কিংবা দরপত্র আহ্বানের প্রয়োজন হবে না। পেঁয়াজ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এ পদক্ষেপ কাজে দেবে বলে জানান সংশ্নিষ্টরা।

এদিকে বর্তমান বাজার ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বাজারে পেয়াঁজের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কারণে এক বিবৃতিতে সংগঠনের নেতারা বলেন, ভারতে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে দাম বাড়ানো হচ্ছে। অথচ ভারতে দাম কমলে ভোক্তারা তার সুফল পায় না। পাইকারি ব্যবসায়ীদের অযুহাতÑ ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্যে বন্যা হওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেÑ আমদানি কম হওয়ার সুযোগ নিয়ে হিলি বন্দরের পাইকাররা কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় যখনই কোনো পণ্যের সংকট তৈরি হয় পাইকারী ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের উপর দোষ চাপান আর খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারী ব্যবসায়ীদের উপর দোষ চাপিয়ে জনগণের নাভিশ্বাস তৈরি করেন। অন্যদিকে অস্থিরতা দূরীকরণে অতীতে উদ্যোগ নেওয়ার উদাহারণ থাকলেও ইদানিং ব্যবসায়ীদের উপর সবকিছু ছেড়ে দিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল লোকজন দিবাস্বপ্নে বিভোর। প্রশাসনের নিরবতায় সর্বত্রই মনে হচ্ছে লুটপাটের রাজত্ব। বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের নানা সভার সিদ্ধান্ত শোনা গেলেও তার কার্যকারিতা কতটুকু, তা নিরপেক্ষ তদন্ত অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

ক্যাব প্রেসিডেন্ট ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ‘চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি থাকলে মূল্য বাড়ার কথা নয়। নিশ্চয়ই চাহিদা বেশি। তবে এখনো বর্ধিতমূল্যের পেঁয়াজ দেশে আসেনি। তার পরও মূল্য বাড়ল কেন, সে বিষয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। ব্যবসায়ীরা তো মুনাফা করতে চাইবেই।’ তাই মনিটরিং জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।

 

advertisement