advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এসআই আকরাম চার্জশিটভুক্ত

নোয়াখালী প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৩১
advertisement

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ডাকাত সন্দেহে পুলিশের উপস্থিতিতে কিশোর শামছুদ্দিন মিলনকে (১৬) পিটিয়ে হত্যার মামলায় পুলিশ সদস্যদের বাদ দিয়ে আদালতে দুই দফা চার্জশিট দিয়েছিলেন ডিবি ও সিআইডির দুই তদন্ত কর্মকর্তা। অবশেষে এ হত্যার দীর্ঘ আট বছর পর মামলার নথি পর্যালোচনা করে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আকরাম শেখকে চার্জশিটভুক্ত করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকেসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। নোয়াখালী আমলি আদালত-২ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মোসলে উদ্দিন মিজান গতকাল সোমবার দুুপুরে এ আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৭ জুলাই কোম্পানীগঞ্জের চর কাঁকড়া ইউনিয়নের ছয় ডাকাতকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা। ওইদিন সকালে কিশোর মিলন চর ফকিরা গ্রামের বাড়ি থেকে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। পথে চর কাঁকড়া একাডেমি স্কুলের সামনে থেকে একদল লোক তাকেও ডাকাত সন্দেহে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেন। কোম্পানীগঞ্জের তৎকালীন

এসআই আকরাম শেখের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মিলনকে থানায় না নিয়ে ডাকাত সাজিয়ে চর কাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেয়। এর পর লোকজন নিরপরাধ কিশোর মিলনকে পুলিশের উপস্থিতিতে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনার কয়েকদিন পর মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওচিত্র পাওয়ার পর নৃশংস এ হত্যাকা-ের খবর গণমাধ্যমে উঠে আসে। এ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় ওঠে।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নোয়াখালী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মামলায় তদন্তে ভিডিওচিত্র দেখে হত্যার ঘটনায় শনাক্ত হওয়া ২৭ ব্যক্তি ও চার পুলিশ সদস্যসহ ৩২ জন আসামির সবাইকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করেন।
পরে মামলাটি অধিকতর তদন্ত শেষে সিআইডি কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মেদ চলতি বছরের ৯ মার্চ আদালতে পুলিশ সদস্যদের বাদ দিয়ে ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। গতকাল সোমবার আদালত মামলার নথি পর্যালোচনা করে এসআই আকরাম শেখকে চার্জশিটভুক্ত করেন। অন্যদিকে আবদুর রাজ্জাক নামে এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় বর্তমানে আট আসামি জামিনে রয়েছেন।

advertisement