advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিচ্ছেদও ঠেকাতে পারল না মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৪
advertisement

চলতি বছরের জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে সোহেল রানা নামে এক যুবককে বিয়ে করেন হাসি আক্তার (২৪)। কিন্তু দুই মাস যেতে না যেতেই স্বামী সোহেল রানা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মতপার্থক্য শুরু হয় তার। চার মাসের মাথায় বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে বাধ্য হন হাসি। এর পরও পিছু ছাড়েননি সাবেক স্বামী। টাকার জন্য হাসিকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে সোহেল। অবশেষে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় হাসিকে গুরুতর আহত করে নগদ টাকা ও স্বর্ণ লুট করে পালিয়ে যায় সোহেল। ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ৭ মে মারা যান হাসি।

এ ঘটনার সাড়ে তিন মাস পর গত রবিবার রাতে কুমিল্লার ধর্মসাগর পার্কের সামনে থেকে ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। প্রাথমিকভাবে হত্যাকা-ের কথা স্বীকারও করেছে সোহেল। সে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নবীনগর থানার বিদ্যাকুট গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, একটি এনজিওতে চাকরি নিয়ে সাভারের আমীনবাজারে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন হাসি। গত ১ মে সকালে হাসির বাসায় জোর করে ঢুকে তার কাছে টাকা দাবি করে সোহেল। টাকা দিতে অস্বীকার করলে হাসিকে এলোপাতাড়িভাবে চড়, থাপ্পড়, কিল ও ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়া হাসিকে খাটের নিচে থাকা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে সোহেল। হাসির মৃত্যু হয়েছে ভেবে সোহেল তিন ভরি সোনা ও নগদ ত্রিশ হাজার টাকা নিয়ে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পরে বাড়ির মালিক হাসিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে ৭ মে হাসি মারা যান।

এ ঘটনায় হাসির মা বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা করেন। আসামি এবং তার পরিবার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-৪ মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে পলাতক সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

advertisement