advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুরমার পার পরিচ্ছন্নতায় নামলেন ব্রিটিশ এমপিরা

সিলেট ব্যুরো
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১১:৪০
সুরমার পার পরিচ্ছন্নতায় নামলেন ব্রিটিশ এমপিরা। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

সিলেটের প্রধান পরিচয় সুরমা নদী। নগরীকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করা এ নদীর বুকে ঐতিহ্যবাহি ক্বীনব্রিজ। তার পাশেই আলী আমজাদের ঘড়ি, চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি, তীরের দৃষ্টিনন্দন উন্মুক্ত চত্বর, সিলেট সার্কিট হাউস, সারদা হল ও জালালাবাদ পার্ক। সিলেটের ঐতিহ্য, প্রাচীন স্থাপনা সব মিলিয়ে পর্যটক আকর্ষণের উপকরণ মজুদ থাকলেও নেই উপযুক্ত তদারকি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্রিজ, নদীর দুপাশে জমেছে আবর্জনার স্তূপ আর চলছে দখলের মচ্ছব।

সুরমা নদী ও ঐতিহ্যবাহী ক্বীনব্রিজ সুরক্ষায় দাবি উঠেছে দেশ ও বিদেশ থেকে। তাই নদীর বুকে ১৯৩৬ সালে নির্মিত লোহার ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সম্প্রতি এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন। যানবাহন চলাচল বন্ধ করে শুধু হাঁটার জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ব্রিজের দুপাশে লাগানো হয়েছে বিশেষ ব্যারিকেড। এ অবস্থায় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ক্বীনব্রিজ ও আলী আমজাদের ঘড়ি ঘুরে দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। ব্রিজটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ^াসও দিয়েছেন তিনি। হেঁটে ব্রিজটি পরিদর্শনকালে মিলার বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। ৮৩ বছরের পুরনো এ সেতুটি পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয়। শুনেছি, এ সেতুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে শুধু হাঁটার সেতুতে রূপান্তর করা হবে। আর সেটা হলে এটি হবে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ পদচারী সেতু। নিঃসন্দেহে এটি দেখতে পর্যটকরা ছুটে আসবেন।’

গতকাল সোমবার সুরমা নদীর পারে চাঁদনীঘাট এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন ইংল্যান্ডের কনজারভেটিভ পার্টির এমপি পল স্কালি, কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এনি মারগারেট মেইন এমপি এবং বব ব্ল্যাকম্যান এমপির নেতৃত্বে ২২ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তারা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান। ব্রিটিশ সাংসদরা বলেন, ‘সিলেট তথা বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ। এখানকার তরুণ সমাজ যেভাবে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে এসেছে, তা আসলেই দৃষ্টান্তস্বরূপ। আমরাও তাদের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে এখানে অংশগ্রহণ করতে পেরে গর্বিত।’ তারা সুরমা নদীর পার পরিষ্কার রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং এ সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে সিটি করপোরেশনকে তাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিকালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপারের যৌথ উদ্যোগে ক্বীনব্রিজকে ঐতিহ্যের মর্যাদায় যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও জালালাবাদ পার্কের উঁচু প্রাচীর ভেঙে দৃশ্যমান নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে নাগরিকবন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সিলেটের সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপারের আবদুল করিম কিম বলেন, ‘ক্বীনব্রিজকে সিলেটের ঐতিহ্য ঘোষণা করে এর পূর্বপ্রান্তে থাকা আলী আমজাদের ঘড়ি, চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি, সুরমা তীরের দৃষ্টিনন্দন উন্মুক্ত চত্বর, সিলেট সার্কিট হাউস, সারদা হল, জালালাবাদ পার্কÑ সবকিছুই পরিকল্পিতভাবে পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্র করা সম্ভব। নদীর দুই তীরেই জমে আছে আবর্জনার ভাগাড়। এসব পরিচ্ছন্ন করা প্রয়োজন, একই সঙ্গে প্রয়োজন নদীকে দখলমুক্ত করার।’ সিটি করপোরেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অব্যাহত রাখারও তাগিদ দেন তিনি।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদীর পার উন্মুুক্ত করা কাজ অব্যাহত আছে। নদীর দুপারে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নদীর পার পরিচ্ছন্ন করাসহ ক্বীনব্রিজকে প্রয়োজনীয় সংস্কারে সব রকমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ ব্রিজ, চাঁদনীঘাট এলাকাকে সিলেটে আসা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান করে তুলতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরবাসীকে সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।

advertisement
Evall
advertisement