advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

৩ বছর ধরে কাতারপ্রবাসী সৌভাগ্যবান ইউপি সদস্য

লালপুর প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৮:৫৭
advertisement

তিন বছর ধরে কাতারে অবস্থান করছেন এক ইউপি সদস্য (মেম্বার)। তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন না। মাসের পর মাস কার্যকরী সভায় অনুপস্থিত। তার পরও পদ আছে বহাল তবিয়তে। আবার নিয়মিত সরকারি ভাতাও উত্তোলন করে ভোগ করছে ‘সৌভাগ্যবান’ এই ইউপি সদস্যের পরিবার। আর তার এ অনৈতিক কাজে সহায়তা করছেন চেয়ারম্যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নির্বাচিত হন মো. আবুল কালাম আজাদ (আবু মেম্বর)। এর সাত মাস পরই জীবিকার উদ্দেশে চলে যান কাতার। বিষয়টি বারবার চেয়ারম্যানকে অবগত করার পরও তিনি এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেননি। অবশেষে গত ২৭ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

সম্প্রতি সরোজমিনে ইউপি সদস্যর বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী মাসুদা বেগমের মাধ্যমে মুঠোফোনে (ইমোতে) আবুল কালামের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। কাতার থেকে কীভাবে ইউপি সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেনÑ এ প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে বিদেশ গেছেন এবং সেখান থেকেই স্থানীয় সব কাজকর্ম তদারকি করছেন বলে দাবিও করেন তিনি। আরও তথ্যের স্বার্থে দ্বিতীয়বার তার বাড়িতে গেলেই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। তিন বছর ধরে ইউপি সদস্য আবুল কালাম কোথায় আছেন, কিছুই জানে না বলে দাবি করে তার পরিবার! তবে ভাতার টাকা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পান বলে স্বীকার করেন মাসুদা বেগম।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ার্ডে বরাদ্দের সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ওই ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ। কদিমিচিলান ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মাস্টার বলেন, ইউপি সদস্য কোথায় আছেন আমি জানি না। ১ নম্বর ওয়ার্ডের সব দায়িত্ব আমিই পালন করছি। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকারি ভাতার টাকা তুলে ইউপি সদস্যের পরিবারকে দেই।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, কোনো ইউপি সদস্য অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ করতে পারবেন না। তিনি আইনবহির্ভূত কাজ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার উপসহকারী পরিচালক গোলাম রাব্বি বলেন, কোনো ইউপি সদস্য তিনটি কার্যকরী সভায় অনুপস্থিত থাকলেই তার সদস্যপদ বাতিল হবে। তদন্ত করে অবশ্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement