advertisement
advertisement

উন্নয়নে দুর্নীতির থাবা
পরিকল্পনা কমিশনকে শক্ত হতে হবে

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৬
advertisement

দেশে সব রকম উন্নয়ন প্রকল্পেই দুটি বিষয় দেখা যাচ্ছে। প্রথমত, কেনাকাটায় অবিশ্বাস্য বেশি দাম দেখিয়ে বাজেট প্রণীত হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ সফর। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বালিশ থেকে উত্তরবঙ্গের মেডিক্যালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে একই কা- ঘটেছে। পুকুর খননের অভিজ্ঞতার জন্য পশ্চিমের উন্নত দেশে বা নগরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিতে আফ্রিকার অনুন্নত দেশ উগান্ডা সফর জনগণকে হাসির খোরাক যেমন দিয়েছে, তেমনি জনগণের টাকার পরিণতি দেখে মানুষের মনে উদ্বেগের শেষ নেই। সর্বশেষ দেখা যাচ্ছে বগুড়া জেলায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সব খাতেই ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়েছে। অতীতে যেখানে তীর সংরক্ষণে মিটারপ্রতি খরচ হয়েছে সোয়া তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা, এবারে তা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। অন্যান্য ক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। কম্পিউটার, স্ক্যানার ও প্রিন্টার, প্রকৌশল যন্ত্রপাতি, কালার ফটোকপিয়ারসহ ছোটখাটো সব ক্রয়ের ক্ষেত্রেই উচ্চমূল্য দেখে পরিকল্পনা কমিশন থেকে আপত্তি দেওয়া হয়েছে।

আমাদের সব স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণ ও বিদেশ থেকে কেনাকাটার দিকে খুব ঝোঁক দেখা যায়। তা ছাড়া বিলাসবহুল গাড়ির প্রতি দুর্বলতাও তাদের কম নয়। অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের নামে বিদেশ ভ্রমণ আদতে অবকাশযাপনের নামান্তরে পরিণত হয়েছে। আবার এ ব্যাপারে প্রকল্প ও মন্ত্রণালয়ের সবাই যাতে সমান সুযোগ পান সেদিকে ‘সুবিচারের’ চেষ্টা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাই দেখা যায়, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনেক সময় কেরানি, ড্রাইভার, আরদালিরাও বিদেশ সফরের সুযোগ পেয়ে যান। এভাবে হয়তো কর্মচারী কল্যাণ হয় কিন্তু দুর্নীতিও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেয়ে যায়।

বাংলাদেশ আজ নানাভাবে দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এখন ছাত্রলীগসহ নিজ দলের দিকে নজর দিচ্ছেন, কিন্তু তাকে সরকারের দিকেও নজর দিতে হবে। সেখানেও দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। নয়তো বাংলাদেশে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ বা সড়ক নির্মাণের ব্যয় কেন এত বেশি হবে। প্রতিবেশী দেশের চেয়েও প্রত্যেকটি খাতেই বাংলাদেশের ব্যয় বেশি। যমুনা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পেও দেখা যাচ্ছে একই ঘটনা। নির্মাণ ব্যয় ধরা যায় বেশি বলেই সবার আগ্রহ উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে। সব উন্নয়ন প্রকল্প থেকে আশানুরূপ ফল মিলছে কিনা তার মূল্যায়নের সময় এসেছে। কেননা সরকার দেদার প্রকল্প নিচ্ছে, অর্থ বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে এবং দেশে লুণ্ঠনের উৎসবও চলছে। পরিকল্পনা কমিশন যে এবার শক্ত অবস্থানে গেছে তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

advertisement
Evall
advertisement