advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি সময়ের দাবি

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৬
advertisement

সড়ক দুর্ঘটনা আজ জাতির মাথাব্যথার প্রধান একটি কারণ। এ নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম যেমন হয়েছে, তেমনি নানা কমিটি বিভিন্ন সুপারিশও দিয়েছে। সর্বশেষ গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উপায় সন্ধানে গঠিত জাতীয় কমিটি ১১১টি সুপারিশ দিয়েছিল। যতদূর জানা যায়, এ সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে এ কাজে সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। কেননা প্রতিদিনই সড়কে বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি বেড়ে চলেছে।

সাধারণ হিসেবেই দেখা যাচ্ছে, সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণে কর্মরত সংস্থা বিআরটিএ লোকবলের দিক থেকেই এ কাজের জন্য সক্ষম নয়। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বিআরটিএতে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার। তখন ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার। অর্থাৎ গাড়ির চেয়ে লাইসেন্সধারীর সংখ্যা কিছু বেশি এবং সেটিই স্বাভাবিক। বর্তমানে গাড়ির সংখ্যা ৪১ লাখ ৬ হাজার ৯৩৪। বিপরীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩৮। অর্থাৎ গাড়ির চেয়ে লাইসেন্সের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ কম। এখানে দুটি গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়। প্রথমত, গাড়ির তুলনায় লাইসেন্স কম থাকায় অদক্ষ চালকদের বেআইনি চালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, অতীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য যে ধরনের পরীক্ষা দিতে হতো বর্তমানে তার কোনো ব্যবস্থা নেই। এটি এখন একটি কাগুজে লাইসেন্স। ফলে দেশে এত বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটে চলেছে।

বিআরটিএর লোকবলের সংকট মারাত্মক। ৪১ লাখ গাড়ির তত্ত্বাবধানের জন্য তাদের পরিদর্শক আছেন মাত্র ১২৫ জন। তাতেই বোঝা যায়, কী ধরনের পরিদর্শন হচ্ছে। বস্তুতপক্ষে বিআরটিএ-কে গাড়ির ফিটনেস, রুট পারমিট, নিবন্ধন, ড্রাইভিং পরীক্ষা গ্রহণ, লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধসহ ১৯ ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ জন্য জাতীয় কমিটি বিআরটিএর জন্য ৩৫৮৭ জনবলের প্রস্তাব দিয়েছিল। বর্তমানে এ সংস্থার লোকবল হলো মাত্র ৮২৩। এর বিপরীতে এখন লোক আছে ৭০৬ জন, অর্থাৎ বিদ্যমান পদের ১১৭টি শূন্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা দরকার। আর সে জন্য এ অবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী পদ সৃষ্টি, লোক নিয়োগ, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ড্রাইভিং পরীক্ষার জন্য সারাদেশে কয়েকটি উপযুক্ত কেন্দ্র স্থাপন করাই অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজ। সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির পর নিয়মিত মনিটরিং হলেই সুফল পাওয়া যাবে। তাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি আজ সময়ের দাবি।

advertisement