advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রয়োজন সব খাতের দুর্নীতি রোধ

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:২৯
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:২৯
advertisement

চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির দায়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দুই নেতার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে গণমাধ্যমে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথাতেই স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, এ যুব সংগঠনেও শিগগির শুরু হবে শুদ্ধি অভিযান। সরকারপ্রধানের দুর্নীতিবিরোধী এমন কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তবে তারা এও বলছেন যে, দলের দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধেই শুধু নয়;

দেশে, বিশেষ করে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও অনেক দুর্নীতিবাজ রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে সংঘবদ্ধভাবেই চলছে দুর্নীতির মচ্ছব। এমনকি পুলিশের, প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাও দুর্নীতিগ্রস্ত। দেশের সব খাত থেকে ব্যক্তি ও চক্রের দুর্নীতি রোধ করতে পারলেই মিলবে রাষ্ট্রের মুক্তি, ত্বরান্বিত হবে উন্নয়ন এবং সত্যিকার অর্থেই এগিয়ে যাবে দেশ। তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী সে পথেই এগিয়ে যাবেন। কারণ তার মতো অটল নেতৃত্বের পক্ষেই সম্ভব দেশকে দুর্নীতির জঞ্জাল থেকে মুক্ত করা।
ব্যাংকিং খাতকে লুটপাট করে নিঃস্ব করে দেওয়া, পুলিশের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তার দুর্নীতি, দুর্নীতি দমনে দুদকের দায়িত্বশীল যে কর্মকর্তা তারও দুর্নীতি, বালিশকা-, পর্দাকা-Ñ এমন একের পর এক কা-ের খবর আসছে গণমাধ্যমে। এসব কা-ে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকা-। সমাজের বিশিষ্টজনরা বলছেন, এ থেকে উত্তরণে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন ছাড়াও পুলিশে, প্রশাসনে, ব্যাংকিংসহ অন্যান্য অনেক খাতে নানাভাবে চলছে দুর্নীতি-চাঁদাবাজি। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারের। কারণ দুর্নীতি শুধু উন্নয়নই ব্যাহত করে না, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকেও হুমকিতে ফেলে; গোটা জাতিকে কুরে কুরে খেয়ে নিঃশেষ করে ফেলে। দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে রাষ্ট্রের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হবে না এবং অর্জিত সাফল্যও টেকসই হবে না।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নের মহাসড়কে। এটি নির্বিঘœ রাখতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা। বিশিষ্টজনরা মনে করেন, ব্যক্তির ও প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি দমন সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম নিয়ামক। তা সম্ভব হলে ব্যাপক হারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য আকাক্সিক্ষত কর্মসংস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আমাদের সময়কে বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর প্রায় প্রতিটি সভায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক করছেন। এখনকার শুদ্ধি অভিযান প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অংশ। দলীয় নিজস্ব সংগঠন ও সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এটা শুরু হয়ে গেছে। পর্যায়ক্রয়ে সর্বস্তরে এর প্রতিফলন দেখতে পাব। হোক রাজনীতির ভেতরে-বাইরে, যারা দুর্নীতি করছেÑ তাদের দ্রুত সতর্ক হওয়া উচিত। তিনি বলেন, দুর্নীতি সমাজের প্রাণশক্তি নষ্ট করছে। সমাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিক দুর্নীতি বন্ধ হলে জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। ব্যক্তিগত লোভ-লালসা থেকেই একজন জড়িয়ে পড়ে দুর্নীতিতে। দুর্র্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) যার যে দায়িত্ব, সে অবস্থান থেকে যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভীতি সৃষ্টি করা যায়Ñ তা হলে এ সামাজিক ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এ জন্য রাজনৈতিক দল, সরকারের পাশাপাশি সমাজের আয়না হিসেবে গণমাধ্যমকেও বিভিন্ন স্তরের দুর্নীতি প্রকাশ করতে হবে। এ তিন দিক থেকে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটলে বাংলাদেশ দুর্নীতি নামক শব্দ থেকে নিস্তার পাবে বলে আশাবাদী বিশিষ্ট এ নাগরিক।
সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতার পর ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে দুদককে কার্যকর করে রাঘববোয়াল নামক বড় বড় দুর্নীতিবাজকে গ্রেপ্তারসহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরও দুদক বিভিন্ন খাতে দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানসহ অনেক এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুদককে আরও কার্যকর ও গতিশীল করা গেলে টেকসইভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. গোলাম রহমান বলেন, দুর্নীতি দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ভালো। ক্ষমতাসীনদের ভেতরে কেউ দুর্নীতি-চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়লে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়াও ইতিবাচক। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক প্রতিষ্ঠানেরও ক্ষমতা রয়েছে, রয়েছে দায়বদ্ধতা। যে যে তার নিজস্ব অবস্থান ও ক্ষমতা থেকে দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আলো জ্বলবেই। বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, সরকারের গত দুই মেয়াদে সোনালী ব্যাংকে হলমার্ক, জনতা ব্যাংকে ক্রিসেন্ট গ্রুপ কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজারে ধস, ব্যাংকে তারল্য সংকট, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি, বিদেশে অর্থপাচারসহ কয়েকটি দুর্নীতি-অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ব্যাপকভাবে সমালোচিত।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজুমদার বলেন, শুধু রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালালেই এটা বন্ধ হবে না। প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। আর দুদককে হতে হবে আরও অনেক গতিশীল।

 

advertisement