advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নয় বছরেও শেষ হয়নি আড়াই বছরের কাজ

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৩৪
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৩৪
advertisement

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ২৩ জুন রাজধানীর কুর্মিটোলার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে সিভিল এভিয়েশনের (সিএএবি) নতুন সদর দপ্তরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কথা ছিল ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে পরবর্তী ৩০ মাস অর্থাৎ আড়াই বছরের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। পরে আরও দুদফায় ১০ তলাবিশিষ্ট এ ভবন নির্মাণের ব্যয় বাড়িয়ে ১৪৭ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি ওই ভবনের নির্মাণ কাজ। এর জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সিএএবি কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা, সিদ্ধান্তহীনতা ও অদূরদর্শিতাকে দায়ী করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার সিএএবিকে তাগাদা দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও সিএএবি কর্মকর্তারা এতে গুরুত্ব দেননি। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর সিএএবি চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেয় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। যেখানে ওই ভবন নির্মাণে কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বেশ কিছু অনিয়ম অসঙ্গতির তথ্য তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও দেওয়া হয় নির্দেশনা।
চিঠিতে বলা হয়, সিএএবি সদর দপ্তর কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পটি ডিপিপি (সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি) ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি ৬১ কোটি ৪০ লাখ ৯০ হাজার টাকায় ২০১৩ সালের জুন মাসের মধ্যে

সম্পন্নের কথা বলে অনুমোদন পায়। এর পর তিন দফায় টেন্ডার আহ্বান করেও ঠিকাদার নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে না পারায় চতুর্থবার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ২৫ মার্চ ১২৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ৮৭০ টাকায় তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লি. নামে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। এর পর প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ওই বছরের ২৯ আগস্ট ১৩২ কোটি ৪৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় দ্বিতীয় সংশোধনী এবং ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ১৪৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ টাকায় তৃতীয়বার ডিপিপি সংশোধন করা হয়। তাতেও কাজ শেষ না হওয়ায় সর্বশেষ ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। কিন্তু সদর দপ্তর কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি।
সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনার ভিত্তিতে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সিএএবির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সদর দপ্তর নির্মাণে চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে নয় বছরেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। ডিপিপির ৬১ কোটি ৪০ লাখ ৯০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়ে প্রকল্প সমাপনান্তে ১৪৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। এটাও ব্যর্থতার নজির। এখনো ভবনের বৈদ্যুতিক কাজসহ অনেক কিছুই অসম্পন্ন রয়েছে। কোনো আসবাবপত্র কেনার সংস্থানও রাখা হয়নি। ফলে যে কোনোভাবে ভবনটি বুঝে নেওয়া হলেও কেমবলমাত্র আসবাবপত্রের কারণে আগামী এক থেকে দেড় বছরেও সেটি ব্যবহার করা যাবে না। তা ছাড়া ভবন নির্মাণ কাজের মানও সন্তোষজনক নয়। এতে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, সিএএবি নিজস্ব অফিস ভবন তৈরি করতে পদে পদে অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিষয়টি নিয়ে বেবিচক সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর মো. খালিদ হোসেন বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সিএএবি সদর দপ্তর কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন এবং আসবাবপত্রসহ আনুসাঙ্গিক কাজ শেষের লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে সব কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক আহ্বান করা হবে। ওই বৈঠকে এ বিষয়ে গ্রহণ করা হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

advertisement