advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কুড়িয়ে পাওয়া ২০০০ ইউরো ফেরত দিলেন বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১২:৩৭ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৬:৪০
কুড়িয়ে পাওয়া ওয়ালেট মালিকের কাছে ফেরত দিতে পেরে খুশি বাংলাদেশি তরুণ মুসান রাসেল
advertisement

ইতালির রাজধানী রোমের রাস্তায় দুই হাজার ইউরোসহ একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পেয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণ মুসান রাসেল। পরে সেটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পর প্রতিদান হিসেবে তাকে পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাবও সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। সেই রাসেলকে নিয়ে এখন ইটালির গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-প্রশংসা চলছে।

ইটালির স্থানীয় পত্রিকা লা রিপাবলিকায় রাসেলের সাক্ষাৎকার আর ছবি ছাপা হয়। সেখানে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন বলে বিবিসির এক খবরে বলা হয়।

সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে রোমে আসেন মুসান রাসেল। রোমের রাস্তায় তিনি একটি লেদার সামগ্রীর স্টল চালান। গত শুক্রবার তিনি রাস্তায় একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। এটি হাতে নিয়ে তিনি দেখতে পান ভেতরে অনেক নোট, ক্রেডিট কার্ড এবং অন্যান্য মূল্যবান কাগজপত্র আছে। এরপর আর কিছু না ভেবেই মানিব্যাগটি নিয়ে তিনি চলে যান পুলিশ স্টেশনে। তিনি সেটি তুলে দেন পুলিশের হাতে।

এরপর পুলিশ মানিব্যাগের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দেয়। মালিক মুসান রাসেলের সততার দৃষ্টান্তে অভিভূত হয়ে তাকে পুরস্কার দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সবিনয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

লা রিপাবলিকা পত্রিকা তার কাছে জানতে চেয়েছিল, প্রথম যখন তিনি মানিব্যাগটি খুঁজে পান, তখন তিনি কি ভেবেছিলেন? রাসেল জানান, মানিব্যাগের ভেতরটা দেখে তার মনে হয়েছিল যিনি এগুলো হারিয়েছেন, তিনি নিশ্চয়ই খুবই সমস্যায় আছেন।

তিনি বলেন, ‘ভেতরে ছিল কয়েকটি ক্রেডিট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং আরও কিছু কাগজপত্র। আর টাকা তো ছিলই। কত টাকা বলতে পারবো না, কারণ আমি গুণে দেখিনি। আমি সবকিছু পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গেলাম।’

পুলিশ তাকে ধন্যবাদ জানালো মানিব্যাগটি জমা দেওয়ার জন্য। সে সময় রাসেল জানান, মানিব্যাগটি ঘটনাচক্রে খুঁজে পেয়েছেন। এটি তার নয়। মানিব্যাগটি তার মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া তার কর্তব্য।

মানিব্যাগটি যার, তার সঙ্গে যখন দেখা হলো তখন কী ঘটলো? তার কাছে জানতে চেয়েছিল লা রিপাবলিকা।

রাসেল জানান, মানিব্যাগটি পুলিশের কাছে দিয়ে তিনি কাজে ফিরে আসেন। কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ তাকে ফোন করে। পুলিশ জানায়, মানিব্যাগের মালিক একজন ব্যবসায়ী। তিনি রাসেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। এরপর মানিব্যাগের মালিক একটা পুরস্কার দিতে চেয়েছিলেন।

কেন তিনি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন- জানতে চাইলে রাসেল বলেন, ‘কারণ এটা কোনো সম্মানের ব্যাপার হতো না। আমি বরং তাকে আমার স্টলে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমি খুশি হব যদি উনি আমার দোকানের কাস্টমার হন।’

advertisement