advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ছাত্রীকে ফোনে ভিসির ‘অশোভন’ কথা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২১:৩৪ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১১:৪৪
ছবিতে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি খোন্দকার নাসিরউদ্দিন
advertisement

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের অশোভন ভাষায় কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

উপাচার্যের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার হুমকির অভিযোগ তুলে ফাতেমা তুজ জিনিয়া নামে ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারও করা হয়েছে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেইলি সান পত্রিকার প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অডিওতে শোনা যায়, রুঢ় ভাষায় জিনিয়াকে ভর্ৎসনা করছেন উপাচার্য। তিনি বলছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী? ফাজিল কোথাকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী তুমি জানো না? বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ তোমাদের মতো বেয়াদব তৈরি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী তোর আব্বার কাছে শুনিস। গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোদিন? আমি খুলছি বলেই তো তোর চান্স হইছে। না হলে তো তুই রাস্তা দিয়া ঘুরে বেড়াতি। বেয়াদব ছেলে-মেয়ে।’

এদিকে উপাচার্যের সঙ্গে জিনিয়ার কথোপকথনের ওই অডিও সত্য বলে স্বীকার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আশীকুজ্জামান ভূইয়া তিনি বলেন, ‘জিনিয়াকে এই কথোপকথনের পরে নয়, আগেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

কিন্তু এরপরেও একজন উপাচার্য কোনো শিক্ষার্থীকে এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারেন কি না প্রশ্নে প্রক্টর বলেন, ‘স্যার হয়ত রেগে গিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পিতৃতুল্য। যখন পিতা রেগে যান তখন বিভিন্ন শব্দ অটোমেটিক্যালি বের হয়ে যায়। ১২ হাজার ছাত্রছাত্রীর পিতামাতা তিনি। তিনি একটা কথা বললেন সেটাই দেখলেন আর যে কাজগুলো এই মেয়ে করল সেটা দেখবেন না?’

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দিনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার হুমকির অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আইন বিভাগের এই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পর্কে ফেসবুকে খারাপ মন্তব্য করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফেসবুক আইডি হ্যাক করে প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি করার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

এদিকে আজ মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওই ছাত্রীকে বহিষ্কারের কারণ ব্যাখ্যা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে ফাতেমা তুজ জিনিয়ার বহিষ্কার শুধু ফেসবুক স্টাটাসের জন্য দেওয়া হয়নি। জিনিয়া অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে ফেসবুকে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা লেখা, কুৎসা রটানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ফেসবুক ও ই-মেইল আইডি হ্যাক এবং ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইট হ্যাক করে ভর্তি পরীক্ষা বানচাল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে ভাইস চ্যান্সেলরের ফেসবুক আইডি দুইবার হ্যাক করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদেরকে নিয়ে খেলতে চাওয়া, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে মিথ্যাচার ও অশালীন বক্তব্য, অনুমতি ছাড়া প্রশাসনের বক্তব্য রেকর্ড করাকে স্বাধীনতা মনে করা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করে শিক্ষকদের অপমান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অন্যায়, গর্হিত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

advertisement