advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘গালমন্দ খেয়েও’ দায়িত্ব পালন করতে চান জাবি উপাচার্য

জাবি প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২১:৪৬ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৫৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম
advertisement

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবি করে আল্টিমেটাম দিয়েছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত এক আলোচনায় এ দাবি করা হয়।

তবে আন্দোলনকারীদের এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন জাবি উপাচার্য। অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের দাবিতে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি নির্দেশ দেন তবে সরে যাবো। যদি আমাকে নির্দেশ না দেন, তবে আন্দোলনকারীদের গালমন্দ খেয়েও থেকে যাবো। হয়ত তাদের আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হবে, কিন্তু নির্দেশ আসা না পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো।’

দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনে ৫’শ টাকার বেশি ঈদ সেলামি পাইনি। এত (অভিযোগ ওঠা ২ কোটি) টাকা আমি দেবো কোথা থেকে? আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী আমি ইউজিসি এবং প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তাছাড়া আমি কী পারি আর কী পারি না সেটা অধ্যাদেশে বলা আছে। সেখানে নিজেই নিজের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলা নেই।’

এর আগে আজ বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হয়। পরে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা বলেন, উপাচার্যের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়া, তাদের টেন্ডারের শিডিউল ছিনতাই, সংগঠনের নেতাদের টাকা পাওয়ার ফোনালাপ ফাঁস এবং উপাচার্যের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার স্বীকারোক্তি প্রভৃতি বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য গোপন করেছেন উপাচার্য। এ জন্য উপাচার্য পদে থাকার নৈতিক অধিকার তার নেই।

এ সময় পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়ে তারা বলেন, আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে উপাচার্যকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো। পাশাপাশি উপাচার্যের দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে। যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের সকলকে ফৌজদারী কার্যবিধির আওতায় আনতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে তারা বলেন, সামনে অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষায় কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হবে না। এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন উপাচার্যকে সকল ভবনে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন তারা।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষক ও উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. আমির হোসেনের মোবাইল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মেবাইল যোগাযোগ বন্ধ করার অভিযোগ এনে তিনি আলোচনায় অংশ নেননি।

আমির বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও গতকাল আমার মোবাইল নাম্বার চার ঘন্টা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমি মনে করি এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমি এ বিষয়টিকে রেজিস্ট্রারকেও জানিয়েছি। এর প্রতিবাদে আলোচনায় অংশগ্রহণ করিনি।’

advertisement