advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গ্রামীণ ও রবির পাওনা বিষয়ে ছাড় নয় : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:২৩
advertisement

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির কাছে সরকারের রাজস্ব এবং বিটিআরসির পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই গ্রামীণ ও রবির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির একটি সুন্দর সমাধান হবে। আমরা নিজেরা হারব না, কাউকে হারাব না। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় ডাক

ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামীণ ও রবি গত ২২ বছর ধরে নিয়মিতভাবে ভ্যাট, ট্যাক্স ও বিটিআরসির পাওনা পরিশোধ করে আসছিল। এর মধ্যে বিভিন্নভাবে গ্রামীণের কাছে চার থেকে সাড়ে চার হাজার ও রবির কাছে আটশ থেকে সাড়ে আটশ কোটি টাকার দাবি আছে। এ দুটি অপারেটরের কাছে আবার বিটিআরসির পাওনা সুদসহ আট হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব বাবদ গ্রামীণের কাছে যে চার হাজার কোটি টাকা পাওনা, তা এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। আর বিটিআরসির যে পাওনা, তা আলোচনার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুই অপারেটরের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে যাচ্ছিল। এ অবস্থা চলমান থাকলে আমাদের ক্ষতি হতো, আমরা রাজস্ব হারাতাম। তারা ব্যবসা করবে, আমরা নিজেদের পাওনা বুঝে নেব। তারা (দুই অপারেটর) যে মামলা করেছে, তা প্রত্যাহার করে নেবে। অপরদিকে সরকারের তরফ থেকে যে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হবে। অর্থমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, তা কখনই দেশের স্বার্থের বিপক্ষে যাবে না। এটি উইন উইন পদ্ধতিতে সমাধান হবে। সব ধরনের রাজস্ব চূড়ান্ত করা হবে হিসাব করে। তারা ব্যবসা করবে পাওনা বুঝিয়ে দিয়েই। তবে তাদের ব্যবসা পরিচালনায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

আলাপ-আলোচনা ব্যর্থ হয়ে বিটিআরসি হার্ডলাইনে চলে গিয়েছিল; তারা শোকজও করেছে- এ বিষয়ে তা হলে কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সেটি এখনো আছে। আমরা মনে করি অন্য কোনোভাবে গেলে অনেক সময় লাগবে। এতে কে লাভবান হবে, কে লুজার হবে, সেটি জানি না। তবে আমাদের লসের আশঙ্কা বেশি। পাওনার ক্ষেত্রে সরকার ছাড় দেবে কিনা এমন প্রশ্নে মুস্তফা কামাল বলেন, এ মুহূর্তে আমার বলা ঠিক হবে না। আমরা একটা সমাধানের দিকে যাচ্ছি। বেশি দিন লাগবে না। দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে সমাধান হবে।

বিষয়টি নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, মঙ্গলবার থেকে দৃশ্যপট বদলে গেছে। বিটিআরসির সঙ্গে দেনা-পাওনার বিরোধ আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে মিটিয়ে নেব। মোবাইল কোম্পানিগুলো জাতীয় অর্থনীতিতে এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখছে। গত ২২ বছরে এ দুটি অপারেটরের সঙ্গে এই পাওনা ছাড়া আর কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধ হয়নি। আমরা ব্যবসার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। তবে জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষিত হতে পারে না। পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা বিষয়টি নিশ্চিত করব।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, গ্রামীণফোন চেয়েছিল আরবিট্রেশনের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করতে। তবে বিটিআরসির আইনে আরবিট্রেশনের কোনো সুযোগ না থাকায়, তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। আমরা তাদের পরামর্শ দিয়েছি, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অতিদ্রুত টেলিনরের সঙ্গে কথা বলতে। তারা আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পাব। এখানে কোনো সুদ বাবদ কোনো পাওনা নেই। কিন্তু বিটিআরসি ৮ হাজার কোটি টাকা পাবে। এর মধ্যে ৬০-৭০ শতাংশ সুদ বাবদ পাওনা। আমাদের পাওনার বিষয়টি এডিআরের মাধ্যমে সমাধান হবে।

গ্রামীলণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি বলেন, ‘আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ যে, আমাদের একত্রিত করে এটির সমাধান খোঁজা হচ্ছে। কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি অপ্র্যাশিতভাবে ঘটে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এখন আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হবে।

advertisement