advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পুলিশ ৪০ দূতাবাসে চায় ‘লিয়াজোঁ অফিসার’ পদ

শাহজাহান আকন্দ শুভ ও আরিফুজ্জামান মামুন
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১০:১০
প্রতীকী ছবি
advertisement

বিশ্বের ৪০ দেশে বাংলাদেশ মিশনে ‘পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার’সহ ১২০টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছিল পুলিশ সদর দপ্তর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবকে ‘বাস্তবসম্মত নয়’ উল্লেখ করে গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে উত্থাপিত এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত মার্চে পুলিশ সদর দপ্তর বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোয় পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ সব মিলিয়ে ১৪১টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মতামতের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবে বলা হয়, বিশ্বের ৫১ দেশে বাংলাদেশের ৬৫টি পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। এ জন্য বাংলাদেশ থেকে ভিআর/পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন পড়ে, যা পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে দেওয়া হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্টের ভেরিফিকেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো  হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে। সেখান থেকে যায় এসবিতে। পরে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রতিবেদন একই পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠানো হয়। এতে প্রচুর সময় লাগে এবং পাসপোর্টপ্রত্যাশীরা হয়রানির শিকার হন। বৈদেশিক দূতাবাসগুলোয় পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হলে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি এসবিতে পাঠানো ও ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে পারবে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার নিযুক্ত হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন, পলাতক আসামি প্রত্যাবাসন, সংশ্লিষ্ট দেশে পুলিশি হয়রানি রোধসহ কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় সরাসরি তদারকি করা যাবে। এতে আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ, অপরাধী প্রত্যাবর্তন, ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্ট আদান-প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ জোরদার হবে। এ ছাড়া পলাতক সন্ত্রাসী বা বিদেশে থেকে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে। এ ছাড়া পুলিশের পদায়ন ও পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনেও ওই পদায়ন জরুরি বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

প্রস্তাবে ৪০ দেশে ৪০টি পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি করে প্রেষণে নিয়োগ, ৪০ জন পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের প্রত্যেকের সঙ্গে দুজন করে ৮০ জন সহায়ক পদ সৃষ্টি, বিদেশি মিশনে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয় তত্ত্বাবধানে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপির একটি, ডিআইজির দুটি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়। এই ৩ তত্ত্বাবধায়কের দপ্তরের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে ১৮টি সহায়ক পদ সৃষ্টিরও প্রস্তাব করা হয়।
পুলিশ যে ৪০টি মিশনে নিয়োগ পেতে চায় তা হলোÑ যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, তুরস্ক, কুয়েত, থাইল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, কাতার, ওমান, মিসর, বাহরাইন, ব্রুনাই, মিয়ানমার, নেপাল, জর্ডান, ইরাক, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, গ্রিস, স্পেন, মরিশাস, লিবিয়া ও মরক্কো।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা পুলিশের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে চিঠি পাঠিয়েছে, তাতে বলা হয়েছেÑ বিদেশের মাটিতে বসে পুলিশি তৎপরতা চালানো বাস্তবসম্মত নয়। পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিষয়ে এসবির সক্রিয়তা এবং সমন্বয় জরুরি বলেও মত দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি দূতাবাসগুলোতে এ ধরনের কোনো ‘পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার’ পদ নেই। আর পুলিশের পদায়ন ও পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দূতাবাসগুলোতে পদায়নের যে কথা বলা হয়েছে, তাও বাস্তবসম্মত নয়। কারণ পদোন্নতি ও পদায়ন পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও পদোন্নতি ও পদায়ন জটিলতা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দূতাবাসগুলোয় রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারের নিচে মিনিস্টার, কনস্যুলার প্রথম সেক্রেটারি, দ্বিতীয় সেক্রেটারি ও তৃতীয় সেক্রেটারি পদমর্যাদার কর্মকর্তা থাকেন। এ ছাড়া কনস্যুলার সার্ভিস, ইনফরমেশন বা লেবার কাউন্সিলর পদেও কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। দূতাবাস বা মিশনে রাষ্ট্রদূত-পরবর্তী পদে সাধারণত পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের মহাপরিচালক আমাদের সময়কে বলেন, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোয় ‘পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার’ পদে নিয়োগের যে প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে করা হয়েছিল তা বাস্তবসম্মত নয় বলে মত দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের অ্যালোকেশন অব বিজনেস অনুযায়ী বিদেশ থেকে যে কোনো অপরাধী বা অন্য কারণে কোনো বাংলাদেশিকে ফেরত আনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতাসহ যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উপযুক্ত প্রতিনিধিরা এতে রয়েছেন।

advertisement