advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আব্বাসের বাসায় ২৭ বছর পর ছাত্রদলের ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৯:৪৩
বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের বাসার সামনে ছাত্রদলের কাউন্সিলররা। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

নানা জল্পনার শেষে ২৭ বছর পর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোটের ফল এখনো পাওয়া যায়নি। এ কাউন্সিল থেকে নির্বাচিত কমিটিই আগামী দুই বছর দায়িত্ব পালন করবে। আদালতের নিধেষাজ্ঞা দেওয়ার ৬ দিনের মাথায় এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলো।

এর আগে মঙ্গলবার সাবেক ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কাউন্সিলরদের জরুরিভাবে ঢাকায় তলব করা হয়। তখনই গুঞ্জন রটে, নির্বাচন করার জন্যই ভোটারদের ডাকা হয়েছে। অবশেষে গতকাল রাজধানীর শাহজাহানপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসায় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

১৯৯২ সালের পর এই প্রথম কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে ছাত্রদলের নেতা নির্বাচিত হচ্ছে। পঞ্চম কাউন্সিলে সর্বশেষ ১৯৯২ সালে রুহুল কবির রিজভী ছাত্রদলের সভাপতি ও সিলেটের নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল ৬ বুথে ভোটগ্রহণ হয়। প্রথম ভোটার হিসাবে ১ নং বুথে ভোট দেন বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুল আলম মিঠু। তিনি জানান, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভোট হয়েছে। ভোটগ্রহণের আগে স্কাইপের মাধ্যমে বড় পর্দায় কাউন্সিলর ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্কাইপে থেকেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ তত্ত্বাবধান করেন তারেক রহমান।

ভোটকে ঘিরে গতকাল সকাল থেকেই নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কাউন্সিলররা জড়ো হতে থাকেন। বিকালে সেখানে হাজারখানেক নেতাকর্মী জড়ো হলে তাতে পুলিশ বাধা দেয়। পরে রাতে মির্জা আব্বাসের বাসায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে ছাত্রদলের এ কাউন্সিল নিয়ে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। ঈদুল ফিতরের আগে ৩ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে প্রার্থী হতে শর্ত দেওয়া হয়- ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হতে হবে, দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র এবং কেবল ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে যে কোনো বছরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এসব শর্ত নিয়ে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির একটি অংশ ক্ষুব্ধ হন। এর মধ্যেই ১০ জুন ছাত্রদলের কাউন্সিল করতে সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে নির্বাচন পরিচালনা, বাছাই ও আপিল- এ ৩ কমিটি গঠন করা হয়। বিলুপ্ত কমিটির ক্ষুব্ধ নেতারা ১১ জুন অসুস্থ অবস্থায় রুহুল কবির রিজভীকে ভেতরে রেখে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করে। টানা কয়েকদিন তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। এর মধ্যে একদিন রিজভী দলীয় কার্যালয়ের সামনে লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষুব্ধ ছাত্রদলের ১২ জনকে বহিষ্কার করা হয়। গত ১০ আগস্ট পুনঃতফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার চতুর্থ জজ আদালতে সাবেক কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহর কাউন্সিলের স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা করেন। পরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত নির্ধারিত কাউন্সিলের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। একই সঙ্গে আদালত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এরপর গত মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের কাউন্সিলরদের অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, ছাত্রদলের গঠন ও পুনর্গঠনসহ ছাত্রদলকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ছাত্রদলের অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রের সংশোধন, কাউন্সিল আহ্বান, কাউন্সিল মুলতবি করা, ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্ধারণে নির্বাচন পরিচালনা করাসহ যে কোনো সাংগঠনিক-রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের ভার দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম আমাদের সময়কে বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে যাদের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ছাত্রদলের কাউন্সিল প্রক্রিয়া থেকে তাদের বাইরে রাখা হয়েছে।

কাউন্সিলরদের সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপালন করেন সাবেক ছাত্রনেতা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালন করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ছাত্রদলের সদ্যবিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান।

 

advertisement