advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জমি দখল করে সদর দপ্তর নির্মাণ করছিল আরএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:১৬
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) লোগো
advertisement

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সদর দপ্তর নির্মাণে জেলা পরিষদের জমি দখলের সত্যতা পেয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠন করে দেওয়া কমিটি। গত মঙ্গলবার দুপুরে কমিটির সদস্যরা রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জেলা পরিষদের ওই জমিতে সরেজমিন তদন্তে গিয়ে জমি দখলের সত্যতা পান।

এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব শায়লা শারমিন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আজিজ হায়দার ভুঁইয়া, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম হাফিজ আক্তার, আরএমপি কমিশনার হুমায়ুন কবীর, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই জমি মাপজোখ করে দেখা যায়, আরএমপির ভবন নির্মাণের জন্য অনেকটা জমি দখল করা হয়েছে। সেই জমিতে পাইলিংয়ের কাজও শেষ হয়েছে।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, সবার উপস্থিতিতেই জমি মাপজোখ করা হয়। এতে দেখা গেছে, জমি দখল করা হয়েছে। এই জমিতে ভবন নির্মাণ না করার জন্য আমরা বারবার বলেছিলাম। আরএমপি কর্ণপাত করেনি। এখন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিষয়টি দেখলেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। আমরা জমি ছাড়তে রাজি নই।

আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু আমি বাইরে থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যা বলবে আমরা তা মেনে নেব।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সিঅ্যান্ডবি মোড়ে ৫ দশমিক ৯৫ একর জমি নিয়ে ছিল জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। এর মধ্যে অনেক আগে পশ্চিম দিক থেকে ১ দশমিক ৩৯ একর জমি আরএমপির কাছে বিক্রি করে জেলা পরিষদ। আর পূর্বের অংশে ডাকবাংলো ভাড়া নিয়ে চলছিল আরএমপি সদর দপ্তরের কার্যক্রম। কিন্তু হঠাৎ পুরো জমিটি দখলে নিয়ে আরএমপি সদর দপ্তর নির্মাণের কাজ শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলোটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়ায়। এ নিয়ে গত ২২ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পরিষদ ও আরএমপির জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য গঠন হয় কমিটি। এর পরই এই কমিটি মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার সকালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেয়রকে জানান, তারা জমি ছাড়তে রাজি নন। ওই জমিতে একটি তিন তারকা হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে জেলা পরিষদের। মেয়র এতে সম্মতি দেন। জেলা পরিষদের এই জমি রক্ষায় তিনি সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন। পরে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গেও এ নিয়ে আলাপ করেন মোহাম্মদ আলী সরকার। এ সময় তিনি জমি পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে এমপি বাদশার সহযোগিতা কামনা করেন। এমপিও তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

মেয়র ও এমপির সঙ্গে বৈঠকের সময় জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ নাঈমুল হুদা রানা, স্থাপনাবিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক আবুল ফজল প্রামাণিক, সদস্য আবদুস সালাম, মোফাজ্জল হোসেন, আবদুর রশিদ, আবু জাফর মাস্টার, আজিবর রহমান, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য কৃষ্ণা দেবী, শিউলী রানী সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

advertisement