advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পুরনো কর্মস্থলে এত মধু!

লুৎফর রহমান কাকন
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৯:১০
তিতাস ও দুদকের লোগো
advertisement

একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর দায়িত্বে থেকে শক্তিশালী ঘুষ-দুর্নীতির সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়েন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে এক প্রতিবেদন পাঠানোর পরই নড়েচড়ে বসে দেশের সর্ববৃহৎ এই গ্যাস বিতরণ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

নজিরবিহীনভাবে বদলি করা হয় হাজারখানেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। তাদের কেউ কেউ ৩৪ বছর ধরে একই জায়গায় কর্মরত ছিলেন; কিন্তু নতুন কর্মস্থলে যেতে রাজি নন দুর্নীতিবাজ অনেকেই। বহালতবিয়তে থাকতে নিজেদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উল্টো চাপ সৃষ্টি করছেন তিতাস প্রশাসনকে। এতে অনেকটাই বেকায়দায় পড়েছেন ঊর্ধ্বতনরা।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোস্তফা কামাল অবশ্য আমাদের সময়কে বলেছেন, ‘কোনো দুর্নীতিবাজকেই আমরা পুরনো জায়গায় রাখব না। তবে কিছু কিছু বদলি বিবেচনা করতে হচ্ছে মানবিক কারণে। যারা অসুস্থ এবং সিরিয়াস সমস্যায় জর্জরিত তাদের বিষয়টা বিচেনা করা হবে।’

তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। গ্রাহক সংযোগের ফাইল আটকে রাখা, আইনের অপব্যাখ্যা দেওয়া, বাইপাস মিটার বা মিটার টেম্পারিং করা, কম্পিউটারে জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ গ্রাহকদের এন্ট্রি করা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যাস চুরির সুযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিগত তত্ত্ববাধায়ক সরকারের আমলে অনেকেই ট্রুথ কমিশনে তাদের দুর্নীতির কথা শিকারও করেন। তবু দুর্নীতি থেমে নেই। সর্বশেষ গত জুনে তিতাসের ২২টি দুর্নীতির ক্ষেত্র চিহ্নিত করে কিছু দিকনির্দেশনা দেয় দুদক। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী একই জায়গায় পাঁচ বছরের বেশি চাকরি করছেন, তাদের বদলির শুপারিশ করা হয়। এটি বাস্তবায়ন করতেই গত জুলাইয়ে প্রায় হাজার জনের মতো বদলি করেন কোম্পানিটির বর্তমান এমডি; কিন্তু সেসব বদলি মানতে নারাজ দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীই। নানা অজুহাতে পুরনো ডেস্কে ফিরতে মরিয়া অনেকে। কেউ কেউ আবার নানা পর্যায় থেকে তদবির করাচ্ছেন বদলি ঠেকাতে।

তিতাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, ‘যাদের বদলি করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই চাকরিতে যোগাদান থেকে ত্রিশ-বত্রিশ বছর একই জায়গায় ছিলেন। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক হয়রানির একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। তাই হঠাৎ বদলির আদেশ তারা মেনে নিতে পারছেন না। অনেক কর্মকর্তা আবার তাদের পুরনো সহকারীকে চাইছেন। তারা নতুনদের মেনে নিতে পারছেন না। কারণ পুরনো কর্মচারীর সঙ্গে তাদের সখ্য থাকায় সহজেই দুর্নীতি করা যেতো। তাই অনেকে নানা অজুহাতে বদলি বাতিলের জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকের বদলি বাতিল করতে আবার তিতাসের সাবেক কর্মকর্তা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিল্পমালিকরাও তদবির করছেন, যা সত্যিই আশ্চর্যজনক।’

advertisement