advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রধানমন্ত্রীকেই শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিতে হবে

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:৫৯
advertisement

দুর্নীতির অথৈ সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে দেশ। প্রধানমন্ত্রী যদিও লাগাম ধরার চেষ্টা করছেন কিন্তু শতমুখে চলছে দুর্নীতির আগ্রাসন। বর্তমান সরকারের আমলে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে অনেক। প্রত্যেকটাতেই রয়েছে ঠিকাদারির কাজ আর বিপুল কেনাকাটা। এ দুই খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কেনাকাটায় সতর্কতার উপদেশ যখন দিচ্ছেন তখন পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে টাকা সরানোর ফাঁদ পাতার কাহিনি। কখনো ভাবা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের স্বামী-সন্তান অবৈধ লেনদেনে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু তেমন ঘটনাই ঘটছে বাংলাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক উপাচার্য বলছেন, অবৈধ অর্থ ভাগাভাগির কাজ কেবল একটিতে নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও চলছে।

দুর্নীতির মহোৎসব কেবল একা দুদকের পক্ষে বন্ধ করা সম্ভব হবে না। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো রাজনীতিবিদ ও আমলাতন্ত্র একজোট হয়ে এতে অংশ নিচ্ছে। অতীতে ছাত্র সংগঠনগুলো দুর্নীতিমুক্ত ছিল, কিন্তু বেশ কিছুকাল ধরে তারাও এতে গা ভাসিয়েছে। ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং বেকার যুবক সবাই এ অনাচারে জড়িয়ে পড়ছে। সম্ভবত এখন নির্দলীয় সাধারণ ছাত্রদের মধ্যেই সততা অবশিষ্ট রয়েছে। তারা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নেমে রাষ্ট্র মেরামতের কথা বলে ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছিল। আদতে রাষ্ট্র মেরামত জরুরি, সেই সঙ্গে অতীব জরুরি হলো সমাজ মেরামত। আমাদের সমাজের মূল্যবোধ সম্পূর্ণ ক্ষয়ে গেছে। সেই কারণেই ক্ষমতাবানরা ইচ্ছামতো দেদার দুর্নীতি চালিয়ে যেতে পারছে। দেখা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনে যেমন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা রয়েছেন, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ব্যাপক হারে দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে।

যে সমাজে শিক্ষক কেবল আর্থিক দুর্নীতি নয়, যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন সে সমাজ আর কীভাবে ভালো পথে চলবে? যে সমাজে জননেতা ও জনপ্রতিনিধিরা একইভাবে আর্থিক দুর্নীতি ও যৌন অপরাধে জড়ান সে সমাজ কে রক্ষা করবে। রক্ষকে-ভক্ষকে সমাজ একাকার আজ। ফলে এত উন্নয়ন ও সাফল্য সত্ত্বেও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দিক থেকে আমাদের অবস্থা শোচনীয়। তাই আর্থিক অবস্থা ভালো হলেও আগামী দিনের উন্নয়নের চিত্র উজ্জ্বল হলেও মানুষের মনে কিন্তু শান্তি নেই, স্বস্তি নেই।

প্রধানমন্ত্রী ইতিহাসের কলঙ্কমোচনে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে, নানান অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় তার দূরদর্শী দক্ষ নেতৃত্বগুণের পরিচয় দিয়েছেন। আমরা আশা করব তিনি দুর্নীতির মূলোৎপাটনে সামনে থেকে শক্ত হাতে দেশকে এগিয়ে নেবেন। এ ছাড়া আমাদের অর্জন ও উন্নয়ন টেকসই হবে না। বিপথগামী শক্তি কখনো ক্ষমতায় এসে দেশকে আবার পেছনের দিকে নিয়ে যাবে। তাই সময় থাকতে হুশিয়ার হওয়া জরুরি।

advertisement