advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বর্ধিত ইন্টার্নশিপ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সুবিধার উন্নয়ন

জাফরুল্লাহ চৌধুরী
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:৫৯
advertisement

বর্ধিত ইন্টার্নশিপ নবীন চিকিৎসকদের জন্য উন্নতির সোপান সৃষ্টি করবে। জনগণ পাবে ন্যূনতম খরচে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা। সাধারণ জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণ সহজেই সম্ভব। প্রমাণ হবে, দেশ কার? সাধারণ জনগণের না লুটেরা ধনীদের

২৭ আগস্ট ২০১৯ তারিখে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী পরিষদ (একনেক) সভায় গ্রামে যেতে অনিচ্ছুক ডাক্তারদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ ও বিরক্তির সংবাদ ১৩ ভাদ্র ১৪২৬, ২৮ আগস্ট ২০১৯ তারিখের বিভিন্ন পত্রিকায় বড় শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে সমবেদনা জানাচ্ছি।

নবীন চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় উৎসাহিত না হওয়ার মূল কারণগুলো খোলামনে বিশ্লেষণ প্রয়োজন। আজ পর্যন্ত কোনো সরকার নিবেদিত চিকিৎসকদের সম্মানদানের জন্য প্রদর্শনীয় কোনো উদ্যোগ নেয়নি। অতীতের সরকারগুলো কোনো কোনো চিকিৎসককে মন্ত্রী বানিয়েছেন, এমনকি রাষ্ট্রপতিও নিয়োগ করেছেন। আবার অপমান করে পদচ্যুতও করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রিয় চিকিৎসকবৃন্দ

১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র ফিল্ড হাসপাতাল ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালে’র নাম পরিবর্তনের জন্য সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের কতিপয় স্বাস্থ্য বিভাগীয় আমলা সৃষ্ট সমস্যা সমাধানকল্পে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লেখককে ডেকে বলেন, বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে অধ্যাপক ফজলে রাব্বী বা চক্ষু বিশেষজ্ঞ আলীম চৌধুরী হাসপাতাল করো। উত্তরে বলেছিলাম, নিবেদিত চিকিৎসকদের স্মরণীয়, বরণীয় করে রাখার দায়িত্ব সরকারের, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়। পরে তার পরামর্শে মুক্তিযুদ্ধের ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালে’র পরিবর্তিত নাম হয় ‘গণস্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’। এই প্রকল্পের প্রসারের জন্য সাভারে বঙ্গবন্ধু প্রায় ত্রিশ একর জমি সরকারিভাবে ভূমিদখল করিয়ে দিয়েছিলেন।

ফরিদপুরে জন্মগ্রহণকারী তিনজন খ্যাতনামা চিকিৎসকের নাম বঙ্গবন্ধু প্রায় সময়ে উল্লেখ করতেন। তারা হলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পঞ্চাশ দশকের প্রিন্সিপাল ও হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট কর্নেল এমএম হক, ক্লিনিক্যাল সার্জারির অধ্যাপক কাজী সামসুল আলম, ঋজঈঝ যিনি ধানম-িতে বঙ্গবন্ধুর পাশের বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। তিনি সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু অগ্রাহ্য করে চিকিৎসার জন্য বিপ্লবী ইলামিত্রকে কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। অপরজন হচ্ছেন ধাত্রীবিদ্যার অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী। তিনি মহাত্মা গান্ধীর প্রিয় পাত্রী ছিলেন। জোহরা কাজীর পরিবার মধ্যপ্রদেশে সেবা গ্রামে গান্ধী পরিবারের সংলগ্ন বাড়িতে দীর্ঘ সময় বসবাস করেছেন এবং গান্ধী তনয় রামদাস গান্ধীর সঙ্গে জোহরা কাজীর নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।

অবশ্য জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু পরিবারের একান্ত প্রিয়জন ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী মনে করতেন ‘খোদার পরে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম’। এ ছাড়া শেখ মুজিব কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ঢাকার নবাবপুরের ডা. এমএ করিম, পূর্ব পাকিস্তান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ডা. টি (তৈয়ব) আলী, ধানম-ির ডা. মেহেরুন্নেসা এবং পাকিস্তান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও কমনওয়েলথ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক এসআইএমজি মান্নানকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। ¯œায়ুগ্রন্থী পেসিনিয়ান কর্পাসলসের (চধপরহরধহ ঈড়ৎঢ়ঁংপষবং) নির্ণয়ক হিসেবে উপমহাদেশের একমাত্র চিকিৎসা বিজ্ঞানী এনাটমির অধ্যাপক এসআইএমজি মান্নানের অবদানের কথা চিকিৎসা বিজ্ঞানের মৌলিক গ্রন্থ ‘গ্রে’জ টেক্সট বুক অব এনাটমি’তে উল্লেখ আছে। কলেরা-ডায়রিয়া নির্ণয়ে ব্যবহৃত ‘মনসুর মিডিয়া’র উদ্ভাবক অধ্যাপক কেএ মনসুরকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু অতর্কিতে মহাখালীর পাবলিক হেলথ গবেষণাগারে উপস্থিত হয়ে।

আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম সন্তান জয়কে ১৯৭১ সালে প্রসব করিয়েছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনির অধ্যাপক এমএ ওয়াদুদ। গর্ভকালীন পুরো সময় সেবা দিয়েছিলেন তার স্ত্রী ডা. সুফিয়া খাতুন।

পঞ্চাশের দশকে বঙ্গবন্ধুর পরিবার সিদ্ধেশ্বরী স্কুল মাঠের পাশে পুকুর পাড়ে পুলিশ ইন্সপেক্টর আখতারুজ্জামানের টিনের বাড়ির এক অংশে নামমাত্র ভাড়ায় বসবাস করতেন। তখন বঙ্গবন্ধু পরিবারকে চিকিৎসাসেবা দিতেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত খ্যাতনামা পারিবারিক চিকিৎসক (ঋধসরষু চযুংরপরধহ) ডা. মন্মথ নাথ নন্দী, (ডা. এমএন নন্দী) এমবি (কলকাতা)। তিনি ৫০-৬০-এর দশকে সপরিবারে বসবাস করতেন ঢাকার ওয়ারীর র‌্যাংকিন স্ট্রিটে। ডা. নন্দীর জন্ম মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী ইউনিয়নের কুষ্টিয়া গ্রামে।

মেডিক্যাল কারিকুলামের যুগোপযোগী সংস্কার

পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস কোর্সে মাত্র পনের দিন সরেজমিন কমিউনিটি মেডিসিন অধ্যয়নের জন্য বরাদ্দ আছে যা ছাত্ররা সাধারণত কক্সবাজার ও কুয়াকাটা ভ্রমণ করে ব্যয় করে। ছাত্রদের সঙ্গে ন্যূনতম সংখ্যক শিক্ষক থাকেন না।

বর্তমান কারিকুলামে সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস, স্কুল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, পেশাজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা (ঙপপঁঢ়ধঃরড়হধষ ঐবধষঃয) ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন ব্যয় এবং স্বাস্থ্য খাতের অর্থনীতি (ঊপড়হড়সরপং ড়ভ ঐবধষঃয ঈধৎব) পড়ানো হয় না বিধায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সহজে চিকিৎসকদের প্রভাবিত করতে পারেন। দ্রুত পুঁজিবাদের বিকাশ এবং গ্রামের সঙ্গে শহরের বিচ্ছিন্নতার কারণে নবীন চিকিৎসকদের গ্রাম সম্পর্কে ভীতি, পারিবারিক চিকিৎসক (ঋধসরষু চযুংরপরধহ/ এবহবৎধষ চৎধপঃরঃরড়হবৎ) হওয়ার পরিবর্তে ওষুধ কোম্পানি ও ক্লিনিক মালিক প্রভাবিত ‘বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে তারা অধিক আগ্রহী হন। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নির্ধারিত কর্তব্য পালন না করেও ধনী সন্তানরা এমবিবিএস পাসের পর পরই ঢাকায় বড় বড় হাসপাতাল ও বিএসএমএমইউতে অবৈতনিক রেসিডেন্সি করে কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে এফসিপিএস/এমডি/এমএস/এমফিল প্রভৃতি পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোয় ভর্তির চিত্রটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কোনো প্রকারে ১০ শতাংশ গ্রামের ছেলেমেয়েরা মেডিক্যাল কলেজের দ্বার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯০ ভাগ সবাই শহরের ধনী উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সন্তান এবং ৫০ শতাংশের অধিক নারী শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের পিতৃপুরুষের গ্রামে বাড়ি আছে বটে, তবে তারা ৫-৭ বছরেও একবার পরিবারের জন্মভূমি পরিদর্শন করে না। তাদের মনে ‘কুসংস্কার আচ্ছন্ন গ্রামের ভীতি’ বাসা বেঁধেছে। এদের অভিভাবকরা গ্রামকে নিরাপদ মনে করেন না। ইউরোপীয় মানের কমোড পায়খানা না থাকার অজুহাতে ছেলেমেয়েদের গ্রাম থেকে জ্ঞান অর্জন ও সেবা প্রদানের সরকারি উদ্যোগকে প্রাণপণে প্রতিহত করেন।

মেডিক্যাল শিক্ষাকে স্বাধীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপযোগী করার নিমিত্তে দশ বছর ধরে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজে প্রত্যেক অধ্যয়ন বছরে ছাত্রছাত্রীরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণস্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে এক মাস অবস্থান করে স্থানীয় নদ-নদী, পশুপাখি, ঋতুর বিভিন্ন ফল ও সবজি এবং গ্রামের প্রচলিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, গ্রাম্য চিকিৎসক, দাই ও সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের সঙ্গে পরিচিত হয়।

প্রান্তিক জনসাধারণের স্বাস্থ্যসুবিধা সরেজমিন দেখার জন্য মেডিক্যাল, নার্সিং, ডেন্টাল ও ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কয়েক সপ্তাহ অবস্থান অতীব প্রয়োজনীয়।

বর্তমানে সব চিকিৎসকের নিয়োগ কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা থেকে হয়ে থাকে। ২০ শতাংশের অনধিক ভাগ্যবান তদবির ও আর্থিক বিনিয়োগ সাপেক্ষে সরাসরি মেডিক্যাল কলেজগুলোয় ট্রেনিং পোস্টের বিপরীতে নিয়োগ পান। বাকিরা ইউনিয়ন, উপজেলা বা জেলাপর্যায়ে মেডিক্যাল অফিসার পদে নিয়োগ পান। নির্বাচিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চিকিৎসকদের নিয়োগ ও তদারকিতে কোনো ভূমিকা নেই। ফলে ঢাকাস্থ মুনিবদের খুশি করে নবীন-প্রবীণ চিকিৎসকরা কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা সংগ্রহ করতে পারেন। এরা অধিকাংশই প্রভাবশালী আমলা, ব্যবসায়ী ও বিত্তবানদের সন্তানসন্ততি।

স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসকদের উন্নতির স্তর অত্যন্ত সীমিত। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে একজন তরুণ চিকিৎসক সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অধিকাংশের কর্মজীবনের অবসান ঘটে সহকারী সার্জন হিসেবেই। ১০ শতাংশ অনধিক মেডিক্যাল অফিসার জেলা সিভিল সার্জন পর্যন্ত পৌঁছতে পারেন জীবনের সায়াহ্নে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের শীর্ষপদগুলো বিসিএস (প্রশাসন) কর্মকর্তাদের দখলে। এটা ক্ষোভের বড় কারণ। উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং চিকিৎসকদের উজ্জীবিত করার নিমিত্তে বিসিএসের (মেডিক্যাল) পরিবর্তে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের মতো বাংলাদেশ মেডিক্যাল সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করে পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব সমন্বয়ে প্রত্যেক জেলায় স্বশাসিত জাতীয় স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বর্ধিত ইন্টার্নশিপ প্রসঙ্গে

বর্তমানে নবীন চিকিৎসকদের চিকিৎসাসংক্রান্ত নিবন্ধন পাওয়ার জন্য এক বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ চালু আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ, জাতি এবং চিকিৎসকদের স্বার্থে ইন্টার্নশিপ বাড়িয়ে দুই বছর করার লক্ষ্যে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। সদ্য পাস নবীন চিকিৎসকরা প্রথম বছর নিজ নিজ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় প্রশিক্ষণ নেবেন। দ্বিতীয় বছর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে (টঐঋডঈ) সার্বক্ষণিকভাবে অবন্থান করে স্থানীয় জনসাধারণকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে জ্ঞানার্জন করবেন। এটা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

ইন্টার্নদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠাতে হবে, উপজেলায় নয়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো ভুল কাজ হবে। দেশে প্রায় ৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে। বর্তমানে প্রতিটিতে দশজনের বেশি চিকিৎসক আছেন। যাদের অনেকে অনুপস্থিত থাকেন। প্রতি উপজেলায় ২০ জন ইন্টার্নশিপ পাঠালে নিয়মিত চিকিৎসকরা আরও বেশি অনুপস্থিত হবেন, সেবা বা প্রশিক্ষণ কোনোটাই হবে না।

লাভবান হবেন তরুণ চিকিৎসকরা

বর্ধিত ইন্টার্নশিপের ফলে নবীন চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। বর্ধিত ইন্টার্নশিপ প্রকৃতপক্ষে এক বছর মেয়াদি চাকরিতুল্য, এক বছরের পূর্ণ বেতন পাবেন। দুই বছর ইন্টার্নশিপ শেষ হলে, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলে তাদের পূর্ণ নিবন্ধন (জবমরংঃৎধঃরড়হ) হবে। এই সময়ে প্রকৃতির নিসর্গ পরিবেশে অবস্থান করে তরুণ চিকিৎসকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়াশোনা করে উচ্চতর ডিগ্রির প্রাথমিক ধাপে পরীক্ষায় প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

নবীন চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিকভাবে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থান করে স্থানীয় জনসাধারণকে সেবা দেবেন। ভবিষ্যতে বিভিন্ন মেডিক্যাল, ডেন্টাল, নার্সিং ও ফিজিওথেরাপির শিক্ষার্থীরা ইউনিয়ন ও উপজেলায় গেলে তাদের ক্লাস নেবেন। কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক পরিচর্যা কর্মীদের সুপারভাইজ করবেন ও রেফার করা রোগীদের চিকিৎসা দেবেন।

বর্ধিত ইন্টার্নশিপ কার্যকর হলে এই বছরই অতিরিক্ত ১০ হাজার নিয়মিত মেডিক্যাল অফিসারের পদে নিয়োগ ও বিভিন্ন কাজের জন্য প্রণোদনা ভাতা (ওহপবহঃরাব) পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। অদূর ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাইমারি বিশেষজ্ঞ পদ সৃষ্টির সমধিক সম্ভাবনা আছে। সর্বত্র চিকিৎসকরা নন্দিত হবেন।

এ সুযোগ তরুণ চিকিৎসকদের হেলায় হারানো উচিত হবে না। ১৯৯০ সালে নবীন চিকিৎসকরা কিছু প্রবীণ চিকিৎসকের চক্রান্তে প্রস্তাবিত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত প্রায় সব দেশে চিকিৎসকরা দূরদৃষ্টির অভাবে শুরুতে স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তনকে ঠেকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেন।

বর্ধিত ইন্টার্নশিপ একটি জনহিতকর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সাহসের সঙ্গে প্রজ্ঞাপনটিকে আইনে পরিণত করুন এবং নিম্নে উল্লেখিত সংস্কারসমূহ ৬ মাসের মধ্যে কার্যকর করার ব্যবস্থা নিন।

বর্ধিত ইন্টার্নশিপ নবীন চিকিৎসকদের জন্য উন্নতির সোপান সৃষ্টি করবে। জনগণ পাবে ন্যূনতম খরচে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা। সাধারণ জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণ সহজেই সম্ভব। প্রমাণ হবে, দেশ কার? সাধারণ জনগণের না লুটেরা ধনীদের।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী : গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা

advertisement