advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কেউ হারেনি, হেরে যাচ্ছে চলচ্চিত্র

মঈন আবদুল্লাহ
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:০৭
advertisement

অনেক দিন ধরেই চলচ্চিত্রে নতুন ছবির সংখ্যা কমে আসছিল। আগে প্রতি সপ্তাহেই দুটি করে নতুন সিনেমা মুক্তি দেওয়া হতো। এখন আর সেই দিন নেই। বিজয়নগরে চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতিতে গেলে কিংবা ফোন করলে ছবির মুক্তি তালিকা পাওয়া যেত। এখনো হয়তো পাওয়া যায়। কিন্তু মাসের অধিকাংশ সপ্তাহেই ছবি মুক্তি দেওয়া হয় না। কেন এমন হচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তর একটাই। চলচ্চিত্রের বাজার মন্দা। দর্শক সিনেমা হলে আসে না। ওকে, সঠিক উত্তর পাওয়া গেল। সবাই আশায় বুক বেঁধেছিল সেপ্টেম্বর মাসকে ঘিরে। কারণ নতুন কয়েকটি ছবি মুক্তি পাবে। গত সপ্তাহে পেয়েছেও। বাণিজ্যিক ধারার ‘অবতার’ ছবিটি দিয়ে অনেক দিন পর পর্দায় ফিরে এলেন মাহিয়া মাহি। কিন্তু ছবিটি দর্শক টানতে তেমন সফল হতে পারল না। কেন পারল না? এ প্রশ্নের উত্তরও পাবেন কেউ যদি ছবিটি দেখে থাকেন। গল্পের নেই কোনো ঠিকানা। মানে হচ্ছে কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই গল্পটি লেখা। একজন কাহিনিকার কাদের টার্গেট করে গল্প লিখেছেন বোঝা মুশকিল। তার পরও সিনেম্যাটিক ব্যাপার তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পরিচালক মাহমুদুল হাসান শিকদার। এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমিন খান। এদিকে তথাকথিত বাণিজ্যিক ছবি ‘মায়াবতী’ দেখতেও দর্শক সাড়া তেমন দেখা যায়নি। তিশা অভিনীত এ ছবিটি নিয়ে সবাই আশার আলো দেখেছিলেন। আমার মতে, ছবিটি আশা পূরণ করতে পেরেছে। তবে একটি ছবি সফলতার কোন পর্যায়ে গেলে মানুষ সফল বলবে। এর কোনো সীমানা নেই। পরিচালক অরুণ চৌধুরী অনেকটাই সফল হয়েছেন। তার পরও হচ্ছে না। কী হচ্ছে না? চলচ্চিত্রের জন্য আলো বয়ে আনতে পারছে না। ছবি হচ্ছে, শুটিং হচ্ছে। কিন্তু চলচ্চিত্রের দুর্দিন কাটছে না। সিনেমা হল মালিকরা বলছেন, সিনেমা হল চালু রাখার জন্য পর্যাপ্ত ছবি নির্মিত হচ্ছে না। পরিচালকরা বলছেন, অনেক ছবিই হচ্ছে, কিন্তু মানসম্মত ছবি নেই বললেই চলে। এত পরিচালক কী করছেন? চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সদস্য সংখ্যা দেখলে মনেই হয় না, পরিচালকের সংখ্যা কম। তা হলে ছবির সংখ্যা কম কেন? অনেক দিন পর প্রযোজক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন হলো। নতুন নেতৃত্ব এলো। তাতেইবা কী। এফডিসিতে তো এখনো চলচ্চিত্রের চেয়ে অন্য অনুষ্ঠানের শুটিং বেশি হচ্ছে। প্রতিদিন এফডিসিতে গেলেই মন খারাপ হয়ে যায়। আধুনিকতার ছোঁয়া বলতে কয়েকটি নতুন কম্পিউটার। এডিটিং প্যানেল নতুন করে সাজানো। মান্না ডিজিটাল কমপ্লেক্স এমনিতেই পড়ে আছে। মাঝে মধ্যে শুটিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।

শোনা যাচ্ছে, নতুন কমপ্লেক্স হবে। সব কিছুই থাকবে। অনেকেই আশায় বুক বাঁধছেন। আমি তো কোনো আশা দেখি না। আবার হতাশার দলেও থাকতে চাই না। তা হলে কী নিয়ে আশা দেখব? স্বপ্ন নিয়ে। নতুন পরিচালকের আবির্ভাব ঘটছে। হঠাৎ করে ঝলকও দেখা যায়। কালেভদ্রে সফলও হচ্ছেন। আলোচনার সৃষ্টি করতে পারছে। সেই সব আলোর ঝলকানি আমাকে স্বপ্ন দেখাতে পারে। সব স্বপ্নই তো বাস্তব হয় না। চলচ্চিত্রেও অনেকেই স্বপ্ন দেখছেন। নতুন চলচ্চিত্র বানাচ্ছেন। কিন্তু একজন সালমান শাহ আনতে পারছেন না। অনেক দিন ধরেই শাকিব খান রাজত্ব করে আসছেন। সেই রাজ্যে নিরব, ইমন, বাপ্পী, ইয়াশরা একটু ঝাঁকুনি দিতে আসেন। কিন্তু গাছের পাকা আম মাটিতে পড়ার মতো ঝাঁকুনি হচ্ছে না। মরা পাতাও ঝরছে না। তা হলে কী হবে? নতুন নায়ক আসবে না। আসবে, সফলও হবে। টিভি তারকাদের মধ্যে অনেকেই চলচ্চিত্রে আসেন মনের ভেতর হাজারো স্বপ্ন নিয়ে। এখন পর্যন্ত সফলতার কলসি কিন্তু খালিই পড়ে আছে। তিশা-জয়ারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সেই চেষ্টাও বৃথা যাবে না হয়তো। যেমন জয়া সীমানার ওপারেও আলোচনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের নাটকের পিলার তো এখনো তিশাই ধরে রেখেছেন। চলচ্চিত্রে তিশা কতটা সফল হচ্ছেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। চলতি মাসে মুক্তি পাওয়া দুটি ছবির ব্যর্থতা কিন্তু সামনের পথকে আরও কঠিন করে তুলবে।

এমনিতেই ছবি চলে না বলে যে কথা আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দু-একটি ছবি হিট হলেও এমন কথা মুছে ফেলা সত্যিই কঠিন। কারণ সিনেমা হল মালিকদের ঢোলের শব্দ কিন্তু বেশি। সেই শব্দ কমাতে সিনেপ্লেক্স আরও বাড়াতে হবে। ব্যবসাসফল ছবিও আসতে হবে বেশি বেশি। ‘অবতার’ ও ‘মায়াবতী’ ছবি যদি হেরে যায়, তা হলে আমরাই কিন্তু হেরে যাচ্ছি। হেরে যাচ্ছে চলচ্চিত্র।

advertisement