advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢাবিতে ডিন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলা

বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:১০
advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিনের পদত্যাগসহ তিন দাবিতে ডিন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরীক্ষা না দিয়েই ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি হয়ে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের ৩৪ নেতাকর্মী অংশ নেওয়ার ঘটনায় বাম সংগঠন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এবং স্বতন্ত্র জোটের কর্মীরা গতকাল বুধবার এই ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়’ ব্যানারে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আন্দোলনকারীরা উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের পদত্যাগ, জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া ডাকসু ও হল সংসদের নেতাদের অপসারণ এবং অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিল, রোকেয়া হলে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার

পদত্যাগ ও হল সংসদের ভিপি-জিএসের অপসারণের দাবি জানান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা ব্যবসায় অনুষদের ডিন কার্যালয় ঘেরাও করেন। এ সময় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী সব নিয়ম বহাল রাখার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল বরাবর স্মারকলিপি দিতে যান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় ডিন কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে উভয় পক্ষ নিজেদের দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলকারীদের মারধর শুরু করে।

আন্দোলনকারীরা বলেছেন, হামলায় পেছনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়াদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী বিজয় একাত্তর হল শাখার শীর্ষ পদপ্রত্যাশী ও হল সংসদের এজিএস আবু ইউনূস, কবি জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী ইমাম উল হাসান ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী ও হল সংসদের জিএস মেহেদী হাসান, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী মাহফুজুর রহমান। হামলায় সরাসরি অংশ নেন তাদের অধীনে হলে থাকা প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। হামলার সময় বিশ^বিদ্যালয়ের কয়েক সহকারী প্রক্টর উপস্থিত থাকলেও তারা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করেননি। হামলায় আহত হয়েছেন ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ। এই ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ফের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে হামলার প্রতিবাদে গতকাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কার্যালয়ে যায়। এ সময় আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এর পর ডিনের কার্যালয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন ডাকসু ভিপি নুরুল হকসহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা। আলোচনা শেষে বেরিয়ে প্রতিনিধি দলের সদস্য ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম বলেন, শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার বিষয়ে তিনি জানেন না। একপর্যায়ে তিনি বলেছেন, আমরা তার ছাত্র নই। তা হলে আমরাও বলছি, উনি আমাদের শিক্ষক নন। তাকে আমরা ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।

ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ে কয়েক বছর ধরে অশুভ তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন দমন করতে তারা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে। এরকম ঘটনা অনেক ঘটেছে; কিন্তু কোনো বিচার হয়নি। আমি শিক্ষার্থীদের ওপর এই হামলার বিচার দাবি করছি।

হামলার বিষয়ে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগ পাওয়ার পলিটিক্স নয়, পলিসি পলিটিক্সে বিশ^াস করে। ছাত্রলীগ কোনো হামলা করেনি। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি দেরিতে শুরু করে হামলার নাটক সাজানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে দুই পক্ষকেই সংযত থাকতে বলা হয়েছে। মূলত সীমা লঙ্ঘনের প্রবণতা থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে।

advertisement