advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাঘাইছড়িতে ফের জোড়া খুন

রাঙামাটি প্রতিনিধি
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:১০
advertisement

একের পর এক খুন, চাঁদাবাজি আর অপহরণকা-ের জন্য রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এখন পাহাড়ের সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়ঙ্কর জনপদে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে বিবদমান ‘জিঘাংসার রাজনীতি’তে প্রাণ ঝরছে নির্বিচারে। নিজেদের নিয়ন্ত্রণে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় যে কোনো সময়েই প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের হত্যা করা ‘মামুলি বিষয়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার মধ্যরাতে বাঘাইছড়িতে রিপেল চাকমা (২৫) ও বর্ষণ চাকমা (২৪) নামে দুজনকে গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা।

নিহত দুজনই আঞ্চলিক দল সংস্কারপন্থি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) সমর্থক। উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বড়াদমের নবছড়ায় এ হত্যাকা- ঘটে।

এ নিয়ে চলতি বছরের গত ৯ মাসের ব্যবধানে দুইটি জোড়া খুনের ঘটনা ঘটল। এ ছাড় গত ১৮ মার্চ বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়িবহরে হামলায় দুই পোলিং কর্মকর্তা, চার আনসার সদস্যসহ আটজনের প্রাণহানি ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মরিশ্যা ইউনিয়নের নবছড়া দুর্গম এলাকায় রিপেলের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বর্ষণ চাকমাও। মধ্যরাতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিত হানা দিয়ে ওই দুজনকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর কিছু দূর গিয়ে দুজনকেই বাড়ির পাশে গুলি করে হত্যা করে।

ঘটনার জন্য সন্তু লারমার

নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে দায়ী করছে সংস্কারবাদী জেএসএস (এমএন লারমা) গ্রুপ। সংগঠনটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জ্ঞান জীবন চাকমা বলেন, মধ্যরাতে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র গ্রুপের সন্ত্রাসীরা রিপেল চাকমা ও বর্ষণ চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত দুজনই আমাদের দলের সমর্থক ছিলেন।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ মঞ্জুর আলম বলেন, ওই এলাকায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুজন নিহত হওয়ার খবর শোনা গেছে। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম। তাই মরদেহ উদ্ধারে নিরাপত্তাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থল রওনা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ১১ আগস্ট মধ্যরাতে উপজেলা সদরের বাবুপাড়া এলাকায় সংস্কারপন্থি জেএসএসের সহযোগী সংগঠন যুব সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শতসিদ্ধি চাকমা (৩৭) ও বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনো চাকমাকে (৩২) গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারীরা। শতসিদ্ধি চাকমা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। এই জোড়া খুনের জন্যও সন্দেহের তীর সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির দিকে ছিল।

এ ছাড়া এই বাবুপাড়া এলাকায়ই গত ৪ জানুয়ারি গুলি করে হত্যা করা হয় এমএন লারমা সমর্থক জেএসএসের কর্মী বসু চাকমাকে। এ ঘটনায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করা হয়। হত্যাকা-ের জন্য রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বড়ঋষী চাকমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অন্তর্কোন্দল আর চাঁদাবাজি ঘিরে একের পর এক সংঘাতে লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। নিরাপত্তার অভাবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পর্যটন ব্যবসা খাতেও।

advertisement