advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ধর্ষিতার স্বামীর হাত-পা ভেঙে দিলেন শ্রমিক লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক পটুয়াখালী
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:১০
advertisement

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বহুল আলোচিত গৃহবধূ গণধর্ষণের মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে বাদী ও নির্যাতিতার স্বামীর এক হাত ও দুই পা ভেঙে দিয়েছে আসামিরা। স্থানীয়রা অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় রাতেই চিকিৎসক বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মহিপুর থানার চাপলিবাজারে মামলার আসামি ও শ্রমিক লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শাকিল মৃধার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মহিপুর থানার ওসি সোহেল আহমেদ

বলেন, ‘পিটুনিতে বাদীর বাঁ হাত ও দুই পা ভেঙে গেছে বলে কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন।’

এ ঘটনায় মহিপুর থানাপুলিশ গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আবুল খায়ের (৪২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের জানান, গত ১৫ এপ্রিল রাতে উপজেলার ধুলাশ্বর ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামে স্বামীকে বেঁধে তার সামনেই স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনায় একই এলাকার মৃত মনু মাঝির ছেলে শাহ আলম, মনির হাওলাদারের ছেলে শাহিন, রবিউল, আল আমিন, আবদুর রশিদ ও মহিপুর থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিলসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে ১৬ এপ্রিল ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন। মামলার পর পরই পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। অন্য আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসে পরে নিম্নআদালতে হাজির হন। এ সময় আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। দীর্ঘ দিন কারাভোগের পর আসামিরা সবাই জামিন পান। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১ জুলাই সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

মোবাইল ফোনে হামলার কথা স্বীকার করে বাদী জানান, মামলার আসামি শ্রমিক লীগ নেতা শাকিল, শাহ আলম, মামুন, রবিউলসহ কয়েক যুবক তাকে রড ও ইট দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেন। এ সময় হামলাকারীরা তাকে মামলা তুলে না নিলে আবারও মারধর করার হুমকি দেন।

ওসি সোহেল আহমেদ জানান, হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিক লীগ নেতা শাকিল ষড়যন্ত্রের শিকার। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে এ মামলায় ফাঁসিয়েছে। একজন ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে শাকিলকে এ জঘন্য মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

advertisement