advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ওসি ওবাইদুল বরখাস্ত

পাবনা প্রতিনিধি
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:১০
advertisement

গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে থানায় বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর গত মঙ্গলবার এ আদেশ দিলেও গতকাল বুধবার সেটি পাবনা পুলিশ অফিসে আসে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই এ শাস্তির মুখে পড়লেন ওসি ওবাইদুল। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইবনে মিজান জানান, পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারীর পক্ষে সহকারী মহাপরিদর্শক

(পারসোনাল ম্যানেজমেন্ট) আবদুল্লাহিল বাকী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। মঙ্গলবারের আদেশে ওসি ওবাইদুলকে বরখাস্তের পাশাপাশি একই আদেশে তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত ২৯ আগস্ট রাত থেকে তিন সন্তানের এক জননীকে চারদিন আটকে রেখে আসামিরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এক সময় নির্যাতিতা পালিয়ে সদর থানায় আশ্রয় নেন। কিন্তু তার অভিযোগ আমলে না নিয়ে ধর্ষক রাসেলের সঙ্গে তার বিয়ে দেন ওসি ওবাইদুল হকসহ ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় জেলা পুলিশের নির্দেশে ৯ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে আসামি করে মামলা হয়। পরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার ওসিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত এবং উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল হককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

পরে পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশে পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজকে আহ্বায়ক এবং সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইবনে মিজান ও ডেপুটি সিভিল সার্জন চিকিৎসক কেএম আবু জাফরকে সদস্য করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তারা তদন্ত শেষে গত রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছিলেন পাবনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ।

advertisement